জাপানে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলছে বাংলাদেশের জন্য

বাংলাদেশ থেকে এক লাখ দক্ষ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি আনতে জাপানের সংগঠন ‘ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কো-অপারেটিভস’ (এনবিসিসি)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি জাপানে প্রেরণের অগ্রগতি, প্রশিক্ষণমান উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি বিশ্বের শ্রমবাজারে নিজেদের দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। জাপানের বাজারে তাদের আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এসময় জাপানের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা জানিয়ে বলেন, এনবিসিসি ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে দক্ষ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
‘ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কো-অপারেটিভস’ হলো ৬৫টিরও বেশি কম্পানির একটি জাপানি ব্যাবসায়িক ফেডারেশন।
যারা সম্প্রতি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সুবিধার্থে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওআই) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির লক্ষ্য জাপানে বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং কর্মসংস্থানের জন্য একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। যার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিআইটিপি) এবং স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার্স (এসএসডব্লিউও)-এর মতো কর্মসূচির আওতায় এক লাখের বেশি কর্মী নিয়োগ করা হবে।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রথম ধাপে আগামী বছর দুই হাজার দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
পরবর্তীতে ২০২৭ সালে ছয় হাজার ও ২০২৮ সালে ১৮ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে।