বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
মাইলস্টোন ট্রাজেডি

নাভিদের সুস্থতার গল্প: ৯৭ দিনে ৩৬ বার অপারেশন, ২২ দিন আইসিইউ

নাভিদের সুস্থতার গল্প: ৯৭ দিনে ৩৬ বার অপারেশন, ২২ দিন আইসিইউ
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বিমান বাহিনীর বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হওয়া মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাভিদ নেওয়াজ (১২) দীর্ঘ ৯৭ দিনের চিকিৎসার পর অবশেষে বাড়ি ফিরে এসেছে। নাভিদ মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের ইংলিশ ভার্সনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

চিকিৎসা চলাকালীন তার পরিবার এবং শিক্ষকমণ্ডলী তার সুস্থতার জন্য নিঃস্বার্থভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে কাটানো নাভিদের জন্য বাড়িতে ফিরা মানে শুধুমাত্র শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক স্বস্তি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে পুনর্মিলনের আনন্দও। পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা জানিয়েছেন, নাভিদের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে পারছেন এবং স্কুলে ফিরে পাঠ্যক্রমে অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই ৯৭ দিনে তার ৩৬ বার অপারেশন হয়েছে। 

আজ (সোমবার) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ইনস্টিটিউটের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন।

তিনি জানান, ২১ জুলাই একটি মর্মান্তিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাভিদ নেওয়াজ দগ্ধ হয়। এরপর শুরুতে তাকে নেওয়া হয় সিএমএইচে, সেখান থেকে পরদিন ৪৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার পর ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা শুরু করি। ৩৬ বার আমরা তার অপারেশন করি। এর মধ্যে সে আইসিইউতে ছিল ২২ দিন, এইচডিইউতে ছিল ৩৫ দিন এবং আইসোলেটেড কেবিনে ছিল ৪০ দিন। তার চিকিৎসা আমাদের কাছে অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। 

এই চিকিৎসক আরও বলেন, আপনারা জানেন ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে যদি ফুসফুস কাজ করে না, তখন তার ফুসফুস পানিতে ভরে যায়। এরপর আমরা তাকে আইসইউতে উপুড় করে শুইয়ে তার চিকিৎসা করেছি। একটা রোগীকে তার মুখে বিভিন্ন ধরনের মাস্ক পরানো থাকে তাকে উপুড় করে শুইয়ে চিকিৎসা করা, খুবই কঠিন কাজ ছিল আমাদের জন্য। এর মধ্যে অনেককেই আমরা বাঁচাতে পারিনি। কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল। বর্তমানে আরও পাঁচজন আমাদের এখানে ভর্তি আছে। হয়তো আগামী সপ্তাহের মধ্যে সকলকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিতে পারব।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে একটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার ফলে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় এবং ভবনটির একটি অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিমানের পাইলটসহ বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৩১ থেকে ৩৬ জন নিহত হন (যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী) এবং আহত হন বহু। 

সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নিহত পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বিমানটিকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন, যাতে প্রাণহানি কম হয়।

ওই ঘটনায় সরকার একদিনের জাতীয় শোকও ঘোষণা করে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন