হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকার বেশি ফেরত আনল সরকার

হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সৌদি আরবে সংরক্ষিত ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের বিপরীতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এই অর্থ সংরক্ষিত ছিল।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেইন কায়কোবাদ।
ধর্মমন্ত্রী জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত আনা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩১০ জনের জন্য সংরক্ষিত ছিল ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ রিয়াল। আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জনের বিপরীতে সংরক্ষিত ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ রিয়াল।
বিষয়টি জানার পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই এবং আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার ‘নুসুক’ সিস্টেমে পুরো অর্থ জমা হয়েছে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকেও ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। অর্থ তাঁদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজের ব্যয় কমানোর বিষয়েও কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালের তুলনায় ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে এই ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনায় বিমানভাড়াসহ ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সাফল্যের জন্য সৌদি সরকার, বিশেষ করে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ধর্মমন্ত্রী। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও জনবান্ধব, সাশ্রয়ী ও সুশৃঙ্খল করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: বাসস