সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ডিগ্রি নয়, মানুষের জীবন বদলাতে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ‘তোমরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে’, শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রপতি বাস, ট্রেন বা বিমানে জানালার পাশে বসতে ভালোবাসেন যারা, তাদের বৈশিষ্ট্য কী? সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজন হলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন সাংবাদিকেরা: রিজভী তারো আসোর সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী গোলাপি স্যাটিনের পোশাকে নতুন লুকে জয়া আহসান আজ শেরে বাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী পুলিশ সদর দপ্তরে গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আইজিপির বিগ ব্যাশে খেলার অপেক্ষায় মোস্তাফিজ, অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন বিসিবির
  • সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজন হলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

    সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজন হলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পুলিশ কঠোর হলে ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’ আর নীরব থাকলে ‘দুর্বল পুলিশ’ বলা হয় বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার অনুমতি দিলে এবং প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি।

    ‘ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার তাগিদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, সুদ ও ঘুষের বিষয়ে কথা বলেন তিনি। আইজিপি বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুদের পরিবর্তে অংশীদারত্ব, নৈতিকতা এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

    অতীতে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, ব্যাংক দখল এবং উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার সমালোচনা করেন আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি কার্যকর না হলে শুধু আইন করে অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক ও সেবা প্রদানকারী—উভয় পক্ষের নৈতিক অবস্থান জরুরি।

    বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া অনিয়ম বা বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) ওপর নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

    পুলিশের কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে আইজিপি বলেন, পুলিশকে অকার্যকর করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    আইজিপি বলেন, পুলিশের কার্যক্রমেরও জবাবদিহি ও ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বারবার পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা বাহিনীকে দায়িত্ব পালনে অকার্যকর করে দেওয়ার চেষ্টা হলে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে।

    তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করব। পুলিশকে ক্ষমতায়ন না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।”

    গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

    মাদক ও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    আইজিপি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের একটি অংশ মাদক ব্যবসা থেকে নিয়মিত অর্থ পেতেন এবং পুলিশের কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভেতরের অনিয়ম দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সম্প্রতি পুলিশের সমালোচনা করে নাগরিক সমাজের ১০১ জন সদস্যের দেওয়া একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইজিপি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার সীমা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে কেউ ইচ্ছামতো আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন। সবাইকে আইনের আওতায় থাকতে হবে।

    পুলিশের নিয়োগ ও পেশাগত দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য

    পুলিশ সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আলী হোসেন ফকির বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয় বলে পুলিশ বাহিনীতে শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন। বিশেষ করে কনস্টেবলরা তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি জনগণকে সেবা দেন। তাই তাঁদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কোনো সংকট তৈরি হলেও অনেক সময় পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সংঘর্ষ হয়। পুলিশের কার্যক্রমকে অকার্যকর করে সব দায় বাহিনীর ওপর চাপানো ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে। জনগণের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

    সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইজিপি। তাঁর অভিযোগ, কিছু সাংবাদিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নীরব থাকেন এবং আর্থিক সুবিধা না পেলে পুলিশের অকার্যকারিতা নিয়ে প্রতিবেদন করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি। পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি এবং অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগও করেনি বলে দাবি করেন আইজিপি।

    ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    আয়োজকদের ভাষ্য, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের জন্য আধুনিক বিকল্প ব্যাংকিং সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন