সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • গোলাপি স্যাটিনের পোশাকে নতুন লুকে জয়া আহসান আজ শেরে বাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী পুলিশ সদর দপ্তরে গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আইজিপির বিগ ব্যাশে খেলার অপেক্ষায় মোস্তাফিজ, অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন বিসিবির ইন্টারনেটে এবার পাঠানো যাবে গন্ধ, এআই প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা স্ত্রীকে ‘অন্য ছেলে দেখো’ বললে কি তালাক হয়? গুলশানের কিংফিশার রেস্টুরেন্টে এনবিআরের অভিযান, জব্দ অ্যালকোহল পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট পর্দায় রক্তারক্তি দেখে পপকর্ন খাওয়া, দর্শকের রুচি নিয়ে প্রশ্ন রাধিকার
  • মাদক অপরাধে কঠোর আইন, তিন মাসে গ্রেপ্তার ৩০ হাজারের বেশি

    মাদক অপরাধে কঠোর আইন, তিন মাসে গ্রেপ্তার ৩০ হাজারের বেশি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মাদক পাচার ও অপব্যবহার রোধে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় আইন প্রয়োগ, নজরদারি ও চিকিৎসাসেবা জোরদার করছে সরকার। অনলাইনে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি, অপরাধলব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদক শনাক্তকরণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ চলছে।

    সরকার বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সংশোধন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনে অনলাইনে মাদক পাচারের জন্য কঠোর শাস্তি, মাদক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) প্রয়োগক্ষমতা বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ব্যবস্থাও রয়েছে।

    সংশোধিত আইনে অনলাইনে মাদক পাচারের দায়ে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত মাদক অপরাধের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর কিছু মাদক অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

    মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে ডিএনসির আধুনিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত কুকুরের দল (ডগ স্কোয়াড) ও উন্নত পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য উন্নত আটককেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার নির্ভুলতা বাড়ানো ও জালিয়াতি ঠেকাতে দেশের প্রতিটি জেলায় উন্নত পরীক্ষাগার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং এর মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও বড় কারবারিদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর ভাষ্য, অভিযান শুধু খুচরা বিক্রেতা ও বাহকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; মাদক ব্যবসার পেছনে থাকা পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে লক্ষ্য করা হবে।

    মন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসার অর্থে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইনে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

    তিনি জানান, মাদক কারবারিরা তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করতে এবং অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াচ্ছে। মাদক-সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধে বেনামি সিমকার্ড, একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড (ওটিপি), হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ব্যবহারও বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এ পরিস্থিতিতে সন্দেহজনক লেনদেন ও অর্থ পাচার শনাক্ত করতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) কারিগরি পরামর্শে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

    তিন মাসে মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩০ হাজারের বেশি

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৪৪ হাজার ২৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অভিযোগের মধ্যে মাদক পাচার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও অন্যান্য অপরাধ রয়েছে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে রয়েছেন ৩০ হাজার ১৮৭ জন, যা মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ।

    এ সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ৬ হাজার ২৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে মাদক বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪ হাজার ২৫১ জন। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) গ্রেপ্তার করেছে ২ হাজার ৪৩৭ জনকে, যাঁদের মধ্যে ৮০৮ জন মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি।

    এসব পরিসংখ্যানে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের ব্যাপক উপস্থিতি উঠে এসেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান চালানোর পাশাপাশি অপরাধ শনাক্ত ও তদন্তে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার উত্তরা এলাকায় কেটামিন উৎপাদনের একটি পরীক্ষাগার শনাক্তের ঘটনাকে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর উন্নত কৌশল ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেটামিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি শক্তিশালী অবেদনকারী ওষুধ, তবে এর অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।

    মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

    সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের পাশাপাশি নতুন ধরনের সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের বিস্তারও মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। এ কারণে প্রশিক্ষিত মাদক শনাক্তকারী কুকুর মোতায়েন এবং পরীক্ষাগার সম্প্রসারণের মাধ্যমে শনাক্তকরণ, তদন্ত ও অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসা ও পুনর্বাসনেও গুরুত্ব

    মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মাদকাসক্তিকে গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের শুধু অপরাধী হিসেবে না দেখে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে—এমন রোগী হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত।

    সরকার ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছে। পাশাপাশি ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা ২৫০টিতে উন্নীত করা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে।

    এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো, মাদকাসক্তির সামাজিক ক্ষতি কমানো এবং তাঁদের সুস্থ ও উৎপাদনশীল জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা।

    তরুণদের মাদক ও জুয়ার অপব্যবহার থেকে সুরক্ষিত রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মাদক ও জুয়াসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

    মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজের সংগঠন, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো একক দেশ, সংস্থা বা সংগঠনের পক্ষে মাদকের ভয়াবহতা নির্মূল করা সম্ভব নয়।

    সরকারের সামগ্রিক কৌশলে তাই মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ, অপরাধলব্ধ সম্পদ শনাক্ত ও বাজেয়াপ্ত, আর্থিক লেনদেন অনুসরণ, আধুনিক তদন্তপ্রযুক্তি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

    সূত্র: বাসস


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন