বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ঢাকায় ৩৩ স্থানে প্রতিমা বিসর্জন, নিরাপত্তায় ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ রাজধানীতে ৫৪৫ সন্দেহভাজন চাঁদাবাজের তালিকা পুলিশের হাতে ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, হামের উপসর্গে একজনের মৃত্যু ফাইনালের আশা বাঁচাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া বাসায় মাসে ২২টি ডিজে পার্টি, আটক ৮৫ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আগে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও বেজা ইকোনমিক জোন পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫১৮ জলবায়ু নীতিতে ঘাটতি, শতাব্দীর শেষে উষ্ণতা বাড়তে পারে ২.৮ ডিগ্রি জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত দেয়নি: শফিকুর রহমান
  • রাতে বারবার প্রস্রাব, পায়ে টান-কিডনির সমস্যার ৫ সম্ভাব্য লক্ষণ

    রাতে বারবার প্রস্রাব, পায়ে টান-কিডনির সমস্যার ৫ সম্ভাব্য লক্ষণ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    রাতে বারবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে যাওয়া, পায়ের পেশিতে টান ধরা কিংবা শুয়ে পড়লে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া—এসব সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ শারীরিক অসুবিধা মনে করেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ কিডনির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে একই ধরনের সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    কিডনি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে বের করে এবং শরীরে বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল ও বর্জ্য জমতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে প্রস্রাবের অভ্যাস, ঘুম ও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিডটাউন আটলান্টা নেফ্রোলজির একটি নিবন্ধে রাতে দেখা দিতে পারে এমন কিডনি সমস্যার পাঁচটি সম্ভাব্য লক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব লক্ষণের কোনো একটি দেখা দিলেই কিডনি বিকল হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    রাতে কিডনির সমস্যার ৫ সম্ভাব্য লক্ষণ

    ১. বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া

    রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। স্বাভাবিক অবস্থায় রাতে কিডনি তুলনামূলক ঘন প্রস্রাব তৈরি করে। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে প্রস্রাব তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে রাতে একাধিকবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে হতে পারে।

    আগে এমন সমস্যা না থাকলেও হঠাৎ রাতে প্রস্রাবের বেগ বেড়ে গেলে বিষয়টি খেয়াল করা প্রয়োজন। তবে ডায়াবেটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ, মূত্রথলির সমস্যা এবং পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হওয়ার কারণেও রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে। তাই শুধু এ লক্ষণ দেখে কিডনির রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

    ২. রাতে পা নাড়ানোর অস্বস্তি

    রাতে শুয়ে থাকার সময় পায়ে অস্বস্তি, ঝিনঝিন অনুভূতি কিংবা বারবার পা নাড়ানোর তাগিদ হলে তা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে। এ সমস্যায় পা নাড়ালে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়। ফলে ঘুমাতে অসুবিধা হয় এবং বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

    দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত কিছু মানুষের মধ্যে এ সমস্যা দেখা যায়। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তস্বল্পতা ও শরীরের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে, যা ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে।

    তবে পায়ে অস্বস্তি হলেই কিডনির রোগ হয়েছে, এমন নয়। সমস্যা নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ৩. ঘুমের মধ্যে পায়ের পেশিতে টান ধরা

    ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরলে ব্যথায় ঘুম ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে পায়ের পেছনের পেশি বা পাতায় এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়।

    শরীরে পানি, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে এসব উপাদানের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের পেশিতে টান বা খিঁচুনি দেখা দেয়।

    তবে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও পেশিতে টান ধরতে পারে। তাই সমস্যা বারবার হলে বা ব্যথা তীব্র হলে এর কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

    ৪. রাতে ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি

    ত্বকে দৃশ্যমান র‍্যাশ না থাকলেও সারা শরীরে চুলকানি হতে পারে। বিশেষ করে রাতে চুলকানি বেড়ে গেলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

    কিডনির গুরুতর সমস্যায় রক্তে বর্জ্য পদার্থ ও ফসফরাসের মতো উপাদানের মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে। এর সঙ্গে ত্বকের চুলকানির সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের অগ্রসর পর্যায়ে এ সমস্যা বেশি দেখা যেতে পারে।

    তবে শুষ্ক ত্বক, অ্যালার্জি, একজিমা ও অন্যান্য রোগেও চুলকানি হতে পারে। তাই শুধু এ উপসর্গের ভিত্তিতে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি থাকলে বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    ৫. রাতে বমি বমি ভাব বা সকালে বমি লাগা

    রাতে শুয়ে থাকার সময় বমি বমি ভাব কিংবা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বমি লাগার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বদহজম, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা খাবারের সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে।

    তবে কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেলে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমতে পারে। এর প্রভাবে ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হতে পারে। এসব উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের অগ্রসর পর্যায়ে দেখা দিতে পারে।

    স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই বারবার বমি বমি ভাব হলে এবং এর সঙ্গে ক্ষুধা কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    কিডনির সমস্যায় আরও যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

    কিডনি রোগের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিতে পারে—

    পা, গোড়ালি, হাত বা মুখ ফুলে যাওয়া

    অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা

    ক্ষুধা কমে যাওয়া

    প্রস্রাবের পরিমাণ বা অভ্যাসে পরিবর্তন

    প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া

    শ্বাসকষ্ট

    ত্বকে চুলকানি

    মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা

    ঘুমের সমস্যা

    এসব লক্ষণের পেছনে কিডনি রোগ ছাড়াও অন্য কারণ থাকতে পারে। আবার কিডনির রোগ থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তাই শুধু লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, পেশিতে তীব্র টান, দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি বা বমি বমি ভাবের মতো সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ কিংবা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

    কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাই করতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি পরীক্ষা দিতে পারেন। যেমন—

    রক্তে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা: কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ কতটা ভালোভাবে অপসারণ করতে পারছে, তা মূল্যায়নে সাহায্য করে।

    ইজিএফআর পরীক্ষা: কিডনির রক্ত ছেঁকে দেওয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেয়।

    প্রস্রাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা: প্রস্রাবের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে প্রোটিন বের হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

    কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, তা রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

    শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ অনেক কমে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা তীব্র অসুস্থতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

    কিডনি সুস্থ রাখতে করণীয়

    কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী হলেও কিডনি বা হৃদ্‌রোগের কারণে চিকিৎসক পানি পানের পরিমাণ সীমিত করে দিলে তাঁর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

    এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া এড়িয়ে চলুন। কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাতে দেখা দেওয়া কোনো একটি লক্ষণকে কিডনি বিকল হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তবে সমস্যা বারবার হলে, দীর্ঘস্থায়ী হলে বা একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

     

    সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের মিডটাউন আটলান্টা নেফ্রোলজির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘5 Kidney Failure Symptoms That Show Up ONLY At Night [No. 3 Wakes Most Patients Up]’ শীর্ষক নিবন্ধ অবলম্বনে অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন