কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ভারতের, পাকিস্তানকে পাল্টা বার্তা

কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। সংস্থাটির প্রস্তাবকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট ও মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ওআইসির এমন অবস্থানের পেছনে পাকিস্তানের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানকে আজাদ কাশ্মীর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে ভারত।
গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন এবং ভারতবিরোধী বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব মন্তব্য করে।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ওআইসির বিরুদ্ধে ভারত অভিযোগ করেছে, সংস্থাটি পাকিস্তানের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নয়াদিল্লির দাবি, কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির অবস্থান নিরপেক্ষ নয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর ওই অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন এবং যোগাযোগব্যবস্থায় অগ্রগতি হয়েছে। এর সুফল স্থানীয় বাসিন্দারা পাচ্ছেন বলেও দাবি করেছে ভারত।
অন্যদিকে, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামাবাদের সমালোচনা করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের অভিযোগ, ওই অঞ্চলে বেসামরিক বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও সহিংসতা চালানো হয়েছে এবং নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি।
ইসলামোফোবিয়া নিয়ে ওআইসির বক্তব্যেরও জবাব দিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিজেদের সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ, ধর্মীয় সহিংসতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যু সামনে আনছে।
ওআইসির গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোকে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।