লালনের আখড়াবাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার: তদন্তে চার সদস্যের কমিটি

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে উদ্ধার করা একটি টাইম বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে টাইম বোমা ও দুই বোতল পেট্রল উদ্ধারের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি তৌহিদ বিন-হাসান এ কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়ার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ, কুমারখালীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সরওয়ার এবং কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দীন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে লালন আখড়াবাড়ির মূল প্রবেশপথের পুলিশ বক্স থেকে প্রায় ১০ হাত দূরে একটি নারিকেলগাছের গোড়ায় সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে আখড়াবাড়ির ভেতরে অবস্থানরত সাধু-ফকিরদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ব্যাগের ভেতরে বোমা থাকার সন্দেহে ঢাকায় পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দেওয়া হয়। গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দলটি ব্যাগটি পরীক্ষা করে। পরে সেখান থেকে একটি টাইম বোমা ও দুই বোতল পেট্রল উদ্ধার করা হয়। টাইম বোমাটি পরীক্ষা করে এর ভেতরে বারুদ, ইলেকট্রনিক সার্কিট ও ব্যাটারি পাওয়া যায়। পরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া বোমাটি শক্তিশালী ছিল। এটি বিস্ফোরিত হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। সময়মতো সন্দেহজনক বস্তুটি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে লালন আখড়াবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কারা, কী উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু ও পেট্রল রেখে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিও বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।