মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯০২ কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত, শিক্ষক আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী ৫২ বছর ধরে ১ টাকায় পড়ানো লুৎফুর রহমান পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ঢামেকের বাথরুমে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে রক্তাক্ত ছুরি বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিল সরকার এআই নিয়ে ভয় কমাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ প্রচারের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের চুম্বকত্বের তৃতীয় রূপ অলটারম্যাগনেটিজমের প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা আলো দিয়ে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কারে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী প্লেগ গবেষণাগারে কর্মীর মৃত্যু, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জামায়াতের নিন্দা, গ্রেপ্তারের দাবি
  • ঢাকার চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণ ও সাশ্রয়ী আবাসনের তাগিদ

    ঢাকার চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণ ও সাশ্রয়ী আবাসনের তাগিদ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার দিবসটি পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৮৫ সালে অক্টোবরের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৬ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর ভিন্ন প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়। ‘বাসস্থান আমার অধিকার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ১৯৮৬ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়।

    এ উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবসের অনুষ্ঠান ও বসতি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলার উদ্বোধন করবেন।

    মানুষের নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য উৎপাদন, সামাজিক জীবন ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন থেকেই বসতির ধারণার বিকাশ। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে মানুষের স্থায়ীভাবে একত্রে বসবাসকে মানব বসতি বলা হয়। ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জীবিকার ধরন অনুযায়ী মানব বসতি মূলত গ্রামীণ ও শহুরে—এই দুই ধরনের।

    যেসব বসতির অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষিসহ প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোকে গ্রামীণ বসতি বলা হয়। অন্যদিকে যেসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির বাইরে বিভিন্ন অকৃষি কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত, সেগুলো শহুরে বসতি হিসেবে পরিচিত।

    বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে আবাসনের চাহিদা বাড়লেও সবার জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য শহরাঞ্চলে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ সীমিত। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ও কৃষিজমি ভরাট, যানজট, নাগরিক সেবার অসম বণ্টন এবং ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের কারণে নগরজীবনে বাড়ছে নানা চাপ।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি করে আবাসন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। নিম্নআয়ের মানুষের সামর্থ্য বিবেচনায় ছোট ও সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট নির্মাণ, সরকারি-বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে তাদের জন্য নির্দিষ্ট জমি ও আবাসনের ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা জরুরি।

    এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের চাপ সামলে সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নগরপরিকল্পনাবিদদের মতে, সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন কমিয়ে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের সুযোগ দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে আবাসন নির্মাণের ক্ষেত্রে কৃষিজমি, জলাশয় ও জলাভূমি রক্ষা এবং কোথায় আবাসন হবে বা হবে না, সে বিষয়ে কার্যকর নগর পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবাসন শুধু একটি ঘর নির্মাণের বিষয় নয়। নিরাপদ বাসস্থানের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলার মাঠ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধাও এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে আবাসন পরিকল্পনার সঙ্গে নাগরিক সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সমন্বয় করা জরুরি।

    ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছে। ২০০০ সালে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে ঢাকা ছিল বিশ্বের নবম জনবহুল নগর। ২৫ বছরের ব্যবধানে জনসংখ্যার দিক থেকে শহরটি বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এ সময়ে ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

    জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে ঢাকার ওপর আবাসন ও নাগরিক সেবার চাপ আরও বাড়তে পারে। ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরে পরিণত হতে পারে। তখন নগরটির জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখে পৌঁছাতে পারে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বাসসকে বলেন, সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন কমিয়ে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। চাকরি, শিল্প ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেশের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শহরের জনসংখ্যা ও প্রবৃদ্ধি পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের সক্ষমতা বিবেচনায় ছোট ও সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট তৈরি করা দরকার। সরকারি-বেসরকারি সব আবাসন প্রকল্পে তাদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি ও আবাসনের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

    ড. আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, আবাসন নির্মাণের নামে কৃষিজমি, জলাশয় ও জলাভূমি ধ্বংস করা যাবে না। কোথায় আবাসন হবে আর কোথায় হবে না, সে বিষয়ে কঠোর নগর পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। শুধু নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে না তুলে বিদ্যমান শহরগুলোর পরিকল্পিত উন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নআয়ের মানুষের আবাসনের সুযোগ বাড়াতে সরকারি নীতিতে তাদের প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন প্রকল্পেও নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক জমি ও আবাসন ইউনিট রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

    বিশ্ব বসতি দিবস মানুষের আবাসন ও বসবাসের পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই নগরায়ণের গুরুত্ব তুলে ধরে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় দ্রুত নগরায়ণের চাপ মোকাবিলা করে সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন