শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বুধবার ইরানি প্রেসিডেন্টের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও বাংলাদেশি বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে বৈঠকের তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মী, রেমিট্যান্স, নৌপরিবহন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘকে নিরপেক্ষ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করে। পশ্চিম এশিয়ায় থাকা প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মী ও রেমিট্যান্সের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে কয়েকটি বাংলাদেশি কনটেইনার জাহাজ আটকে থাকার বিষয়টিও ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত এ সমস্যার সমাধান এবং কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধের অবসান চায়।

তিনি আরও বলেন, সংঘাতের অবসান হলে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে ইরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে—এমন সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা বৈঠকে জানানো হয়। হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি সংকটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পেজেশকিয়ান বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ইরানের কর্মকর্তারা উত্থাপিত বিষয়গুলো নোট করে নিয়েছেন।

পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য অংশীদারও বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে দেশটিকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তারেক রহমান সেই দায়িত্ব নিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ‘সফট মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ বা নরম মধ্যস্থতাকারী প্রভাব হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকটিও সেই উদ্যোগের অংশ বলে জানান তিনি।

বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন