শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

নতুন রুট চালুর পরিকল্পনায় ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি : মাহদী আমিন

নতুন রুট চালুর পরিকল্পনায় ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি : মাহদী আমিন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।’

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিমান পরিবহন চাহিদা এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনা হবে। দেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে কারণে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পরে বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, এদিন স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়ও ছিল।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের কথাও জানান মাহদী আমিন। এতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজন হলে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে মিয়ানমারসহ সংকটসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন