শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বিশ্ব নেতাদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বিশ্ব নেতাদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ ০.৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।

তিনি জানান, শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বড় ধরনের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জলবায়ু মোকাবিলায় দেশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সবুজ শিল্প সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টায় অর্জন করা সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন তারেক রহমান। এর মধ্যে প্রথমটি হলো প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কার্যক্রমে পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।

চতুর্থত, সুলভ অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পঞ্চমত, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত অর্থ পুনঃপূরণের ওপর জোর দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন