বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত নিবিড় তদারকি, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া জানতে চান, বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে সরকারের কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না এবং এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী ধরনের মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে সাধারণত একটি কারণ দায়ী নয়। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ সমস্যা তৈরি করে।

তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব কারণের মধ্যে রয়েছে দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ব্যয়ের সঠিক প্রাক্কলন না করা, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, যথাসময়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি।

সমস্যা সমাধানে সরকারের ১৩ দফা পদক্ষেপ

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও অপচয় রোধে সরকারের নেওয়া ১৩টি পদক্ষেপ সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো—

১. নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) নিশ্চিত করা।

২. প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা।

৩. প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করা।

৪. চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন।

৫. নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি।

৬. ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর দ্রুত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।

৭. নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

৮. যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস, আওতা পরিবর্তন বা চলমান রাখার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।

৯. বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ করা।

১০. সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি (e-GP) ব্যবহারের সম্প্রসারণ।

১১. প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

১২. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া।

১৩. সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫’ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া।
 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন