শাপলা চত্বর মামলায় ইনু-লতিফ সিদ্দিকীসহ ১১ আসামি ট্রাইব্যুনালে

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। এদিন ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি করবেন।
মামলায় হাজির করা অন্য আসামিরা হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও বেশ কয়েকজনকে পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
এ তালিকায় সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদসহ পুলিশের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও র্যাবের সাবেক কর্মকর্তাদেরও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাংবাদিক ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎকালীন কর্মকর্তারাও পলাতক আসামির তালিকায় রয়েছেন।
এর আগে ১৬ আগস্ট মামলায় ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে দুই আসামির নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি না হওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের বিষয়ে নন এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) না পাওয়ায় সময় চায় প্রসিকিউশন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল ৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।