বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে দেখা করতে উত্তম কুমারের সেই অনুরোধ পোশাক রফতানি খাতের সংকট দ্রুত সমাধানের তাগিদ রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে হেঁটেই জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আবারও বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে বেড়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা জন্মাষ্টমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় নেপাল-তিব্বতের হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১,২০০ জন্মশতবর্ষে উত্তম-স্মরণ, প্রিয় চরিত্রের কথা জানালেন টলিউডের নায়কেরা পিঠের পুরোনো চোটে আবারও ছিটকে গেলেন বর্ষণ শাপলা চত্বর মামলায় ইনু-লতিফ সিদ্দিকীসহ ১১ আসামি ট্রাইব্যুনালে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি মালয়েশিয়া-ফিলিপিন্সে
  • ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি মালয়েশিয়া-ফিলিপিন্সে

    ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি মালয়েশিয়া-ফিলিপিন্সে
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সপ্তাহজুড়ে ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুন থেকে তৈরি বিষাক্ত ধোঁয়া ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও ফিলিপিন্সের বিভিন্ন এলাকাতেও পৌঁছেছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।

    দাবানলের ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে। ঘন ধোঁয়ার কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা উদ্ধারকারী ও অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীকেও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

    সুমাত্রা এবং বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশ কালিমান্তানে লাখ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে এই বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছেন। শ্বাসতন্ত্রের নানা সমস্যা নিয়ে হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দেশটিতে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে বলেও জানা গেছে।

    পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে ক্লাউড সিডিং কিংবা উড়োজাহাজ ব্যবহার করে অগ্নিনির্বাপণ অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশাল এলাকাজুড়ে ধোঁয়ার ঘন স্তর তৈরি হওয়ায় প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

    নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় কয়েক হাজার কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

    কৃষিজমি পরিষ্কারে আগুন ব্যবহারের অভিযোগ

    ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুম থাকে। এ সময় কৃষকরা পাম অয়েল চাষ এবং পাল্প ও কাগজ উৎপাদনের জন্য জমি পরিষ্কার করতে আগুন ব্যবহার করে থাকেন।

    তবে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এসব আগুন অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে কালিমান্তান ও সুমাত্রার সুরক্ষিত বনাঞ্চলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে।

    আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কারের এই পদ্ধতি ইন্দোনেশিয়ায় আইনত নিষিদ্ধ। তারপরও বিভিন্ন এলাকায় তা অব্যাহত রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে দাবানলের তীব্রতা বেড়ে যায়। চলতি বছরের ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইন্দোনেশিয়া সরকারও স্বীকার করেছে, দেশটির অনেক দাবানল ব্যক্তি বা বিভিন্ন করপোরেশনের ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর কারণে সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রবোবো সুবিয়ান্তো সম্প্রতি জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মালয়েশিয়াতেও স্বাস্থ্য সতর্কতা

    ইন্দোনেশিয়ায় যখন দাবানল ও ধোঁয়ার কারণে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বাড়ছে, তখন এর প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও। মালয়েশিয়ায় ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশীয় অংশ সারাওয়াকের বেশ কয়েকটি এলাকায় এয়ার পলুশন ইনডেক্স (আইপিআই) ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    কুচিং, সামারাহান, সেরিয়ান, শ্রী আমান ও বেতোং এলাকায় সরাসরি ক্লাস বা সামনাসামনি পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। কালিমান্তান থেকে আসা ধোঁয়া দিন দিন ঘন হয়ে ওঠায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সারাওয়াকের বাসিন্দা মুহাম্মদ ফাজলি বেন্দাউদ বলেন, কুয়াশা দিন দিন আরও তীব্র হয়ে ওঠায় তিনি উদ্বিগ্ন।

    সিঙ্গাপুরেও বাড়ছে উদ্বেগ

    ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল অব্যাহত থাকায় বায়ুদূষণের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আরেক প্রতিবেশী দেশ সিঙ্গাপুর।

    বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির বাসিন্দাদের ২০১৩ ও ২০১৫ সালের ভয়াবহ দাবানলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই সময় ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় সিঙ্গাপুরের আকাশ সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঢেকে ছিল।

    সেসময় স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এমনকি বিভিন্ন ফাস্টফুড চেইন হোম ডেলিভারি কার্যক্রমও বন্ধ করে দিয়েছিল। বাজারে দেখা দিয়েছিল এন-৯৫ মাস্কের সংকট।

    গত কয়েক বছরে ইন্দোনেশিয়া দাবানলের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় সিঙ্গাপুর বড় ধরনের ধোঁয়াশা পরিস্থিতি থেকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত ছিল। তবে চলতি বছরের ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে—এমন আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিঙ্গাপুর সরকার ও খুচরা বিক্রেতারা পর্যাপ্ত এন-৯৫ মাস্ক মজুদ করেছে। স্কুলগুলোও বাইরের কার্যক্রম কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে।

    এমনকি অক্টোবরের শুরুতে লক্ষাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় ফর্মুলা ওয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স ঘিরেও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত মাস্ক ও চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখার বিষয় রয়েছে।

    ফিলিপিন্সেও ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ

    ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাব পড়েছে ফিলিপিন্সের পালাওয়ান দ্বীপ প্রদেশেও। সেখানে বাসিন্দারা চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া এবং চুলকানির মতো উপসর্গের কথা জানিয়েছেন।

    পালাওয়ানের চিকিৎসক ডা. প্রেশিয়াস বানাস-মেলাড জানান, গত কয়েক দিনে তার স্বামী ও ফুফাতো ভাইয়ের চোখ, নাক ও গলায় চুলকানি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি হালকা মাথাব্যথাও হচ্ছে।

    তিনি বলেন, তার ফুফাতো ভাইয়ের আগে কোনো ধরনের অ্যালার্জি ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি তারও অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিয়েছে। প্রথমে তার স্বামীর চোখ ও গলায় চুলকানি শুরু হয়।

    চিকিৎসক জানান, গত সপ্তাহে বালাবাক শহরের আকাশে তিনি কুয়াশার মতো আবরণ দেখতে পেয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার তার মনে হয়েছে, ধোঁয়াশা যেন আরও কাছে চলে এসেছে।

    রোববার এলাকায় পোড়া গন্ধও পাওয়া যায় বলে জানান তিনি। প্রথমে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে গন্ধটি আসছে বলে ধারণা করে টেলিভিশন, কফি মেকারসহ বিভিন্ন যন্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তারা। পরে ইন্টারনেটে খোঁজ করে জানতে পারেন, ওই পোড়া গন্ধের উৎস মূলত ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চলের দাবানল।

    ইন্দোনেশিয়ার দাবানল অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিকভাবে বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন