ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশের উদ্ধোধন

ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়ার তীব্র যানজট নিরসন এবং দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সুগম করতে প্রস্তুত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩.১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি লেনের সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ধউর সেতুর ওপর আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সেতু দুটির শুভ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী বলেন, "দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ দেশের অন্যতম দীর্ঘ এই উড়াল সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চালু হলো। বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসের ত্বরান্বিত পদক্ষেপে প্রকল্পটির কাজের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।" প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ সার্বিকভাবে প্রায় ৬৫ থেকে ৭২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যেই প্রকল্পের অবশিষ্ট বড় অংশ শেষ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ড. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি (CMC) প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের উন্মুক্তকরণকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুরোপুরি উন্মুক্ত ও নির্বিঘ্ন রাখার স্বার্থে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত পুরনো সড়কটি অপসারণ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ পরিবহন কোনো প্রকার টোল প্রদান ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সার্ভিস লেন ব্যবহার করে নদী পার হতে পারবে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগানো যানজট ও ধীরগতির পর এই একাংশ চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী পরিবহন চালকদের মাঝে দেখা গেছে ব্যাপক স্বস্তি।
উল্লেখ্য, ঢাকার ওপর গাড়ির চাপ কমাতে এবং ঢাকার সাথে আশেপাশের শিল্পাঞ্চলের দ্রুত সংযোগ স্থাপনে একনেকে অনুমোদনের ৫ বছর পর ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। নানা জটিলতা পেরিয়ে দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭,০৪৫.৬৭ কোটি টাকা। নতুন সংশোধিত নকশায় আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ এবং বাইপাইলে তিন তলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন 'ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ' অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশাল এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া এবং আশপাশের পোশাকশিল্পের বাণিজ্যিক গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।