তারেক রহমানের সঙ্গে আইপিইউ সেক্রেটারির সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় সংসদের সঙ্গে আইপিইউর সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উপস্থিতি সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে আইপিইউ সেক্রেটারি বলেন, গণতান্ত্রিক এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী আইপিইউ।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে তারা আনন্দিত।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির বহু নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। দলের প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুগম করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেনি, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও দলটির ভূমিকা রয়েছে।
তবে গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইপিইউ ও বাংলাদেশের সংসদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আন্দা ফিলিপ।
বৈঠকে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইপিইউ সেক্রেটারি তাঁদের উদ্যম ও আগ্রহের প্রশংসা করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।