বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ‘সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে জামায়াত’: নুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শেষ, চলছে গণনা রাষ্ট্রপতির শপথেই শেষ হবে ফখরুলের এমপি-মন্ত্রিত্ব: চিফ হুইপ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রিন ফাইন্যান্স মিললে সোলারে যাবে ১,৩০০ পোশাক কারখানা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যের ফর্মুলা জানালেন সিমন্স র‍্যাব বিলুপ্ত হলেও বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি হবে: ইন্তেখাব ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, সংসদে চলছে ব্যালট গ্রহণ বঙ্গভবন ছাড়লেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ রোহিঙ্গা সংকটে অর্থনীতি ও পরিবেশে বাড়ছে চাপ: সেনাপ্রধান
  • তারেক রহমানের দিল্লি সফর ঘিরে অনিশ্চয়তা, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে টানাপোড়েন

    তারেক রহমানের দিল্লি সফর ঘিরে অনিশ্চয়তা, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে টানাপোড়েন
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক প্রকাশ্য তৎপরতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হতে যাচ্ছে। এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

    দুই আমন্ত্রণ ঘিরে সফরের আলোচনা

    বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয় বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন।

    এরপর আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় ভারত। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে আউটরিচ অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    গত ১৪ জুলাই ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে ২৩ জুলাই সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

    তবে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

    আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ দেখছেন বিশ্লেষকরা

    কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

    বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে নানা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে দিল্লি। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, আন্তসীমান্ত যোগাযোগ ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের কারণে দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।

    গত এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দিল্লি সফর এবং ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎকে দুই দেশের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    আলোচনায় থাকতে পারে যেসব বিষয়

    প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

    এর মধ্যে রয়েছে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের হস্তান্তর, আন্তসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ভারতের সহযোগিতা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা।

    এ ছাড়া বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পানিবণ্টনের বিষয়টিও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে একটি পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন করে চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

    শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকার উদ্বেগ

    সফরের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে শেখ হাসিনার ভারত অবস্থানকে দেখছে ঢাকা। ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।

    ঢাকার অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।

    ১৭ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ চলছে। তবে শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনের কারণে প্রক্রিয়াটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তিনি জানান, সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিকে দ্রুত প্রত্যর্পণের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সার্বভৌমত্ব, সমতা, জাতীয় মর্যাদা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক চায় দিল্লি

    বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী একাধিকবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠকের গুরুত্বের কথা বলেছেন। ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন তিনি।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়া হবে বলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান তিনি।

    তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলে অনেক জটিল বিষয় সহজে সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে এবং এর সুফল দুই দেশের সাধারণ মানুষ পাবে।

    সফর নিয়ে ভারতের সাবেক কূটনীতিকদের আশাবাদ

    তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ভারতের সাবেক কূটনীতিকদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি মনে করেন, এই সফর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    তার মতে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো সমাধানে সফরটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

    তবে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন, তারেক রহমানের ভারত সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে যুক্ত করা অপ্রয়োজনীয় ও কূটনৈতিকভাবে সমীচীন নয়।

    সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে। তবে সফরের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ঢাকা-দিল্লির চলমান আলোচনার অগ্রগতির ওপর।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন