হাম আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই ছিল অপুষ্টিতে, বলছে গবেষণা

হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই অপুষ্টিতে ছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল তীব্র অপুষ্টিতে এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টিতে ভুগছিল।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শিশুদের হামবিষয়ক গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ জন হাম আক্রান্ত শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, এসব শিশুর ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি।
মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে এই হার আরও বেশি। তাদের ৮২ শতাংশই জীবনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। অর্থাৎ হামে মৃত্যুর ক্ষেত্রে অপুষ্টি ও পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টিকার অবস্থায়ও ভিন্ন চিত্র
গবেষকেরা শিশুদের বয়স ও টিকা নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন।
নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সি ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের (৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ) শরীরে হাম শনাক্ত হয়।
টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের বা ৯২ শতাংশের এবং দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের ৭৬ শতাংশ হাম আক্রান্ত হয়েছে—এভাবে এই তথ্যকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। কারণ গবেষণায় অংশ নেওয়া সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাই দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হওয়ার হিসাবটি শুধু ওই হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আরও গবেষণার প্রয়োজন
দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার কারণ জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
তাদের মতে, টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্য কোনো কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বর্তমান গবেষণায় এসব সম্ভাব্য কারণের কোনটি সংক্রমণের জন্য দায়ী, তা নির্ধারণ করা হয়নি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।
গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।