‘জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা হলে তা হবে চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ : ডা. শফিকুর রহমান

জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা দমনমূলক পদক্ষেপ না নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে তা হবে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যেন কোনোভাবেই জুলাই যোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন না চালায়। তাদের রক্ত, ত্যাগ ও সাহসিকতার অবদান স্মরণ রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
চিকিৎসাধীন আহতদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিদেশে চিকিৎসাধীন অনেক জুলাই যোদ্ধা এখনও স্থায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। তাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার বিষয়টি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবদান যেন আড়াল না হয়। নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইতিহাস সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও তৈরি না হওয়ার বিষয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ না থাকে।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক প্রতিশ্রুতি ও অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। জনগণের রায় ও গণভোটের ফলাফলের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
বিচারপ্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক মামলার বিচারকাজে গতি আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ আরও কার্যকর হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত। তবে জনগণের মৌলিক অধিকার ও গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সমঝোতা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।