রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির।

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী মামলাটি দায়ের করেন। এতে মো. শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগ গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সদর থানাকে নির্দেশ দেন।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর ওই নারী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ তাকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে অভিযুক্তের বোনের বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে আরও একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, এতে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। পরে গত ১৮ মে চিকিৎসার কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরদিন জ্ঞান ফিরলে তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছেনি। কপি হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন