নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে নদীর মাঝখানে নিয়ে দুই শিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করার পর দুই নৃত্যশিল্পীকে নদীর মাঝখানে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায়।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বুড্ডা গ্রাম থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করে সরাইল থানা পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শাহবাজপুর গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ১৯ বছর বয়সী এক নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন শাহবাজপুর গ্রামের রাকিব মিয়া (২২)।
পরে তিন শিল্পীর সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় নৃত্য পরিবেশনের চুক্তি করেন রাকিব। বৃহস্পতিবার দুপুরে চান্দিনার ওই নৃত্যশিল্পী দুই কিশোরী নৃত্যশিল্পীকে নিয়ে সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে পৌঁছান।
পরে রাকিব মিয়াসহ দুই যুবক তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তিন নৃত্যশিল্পীকে তিতাস নদের শাহবাজপুর অংশের মাঝামাঝি নিয়ে যান পাঁচ যুবক। সেখানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর পুরুষ শিল্পীকে দেশি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন তারা। এ সময় দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন ওই যুবকেরা।
পরে রাত ৮টার দিকে তিন নৃত্যশিল্পীকে তিতাস নদের নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানিতে ফেলে রেখে পাঁচ যুবক নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারী নৃত্যশিল্পী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই যুবক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।