রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ‘স্বৈরাচার হেরেছে’ স্লোগানে মুখর দিল্লি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উচ্ছ্বাস রোববার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, একদিনে প্রাণ গেল একজনের ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভিসা সমস্যা সমাধানের আহ্বান শাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই হাম-উপসর্গে বাড়ছে মৃত্যু, সর্বশেষ ৬ শিশুর সবাই ঢাকা বিভাগের সরকারি হাসপাতালের বাথরুমে মিলল ওষুধ, অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
  • ডিজিটাল যুগে ফিতনা থেকে বাঁচতে ইসলামের নির্দেশনা

    ডিজিটাল যুগে ফিতনা থেকে বাঁচতে ইসলামের নির্দেশনা
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে একটি মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে মুহূর্তেই যেকোনো তথ্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ ও সমৃদ্ধ করলেও এর অপব্যবহার তৈরি করছে নতুন ধরনের সামাজিক ও নৈতিক সংকট।

    বর্তমানে গুজব, মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, চরিত্রহনন, ভুয়া স্ক্রিনশট, সম্পাদিত ছবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি মিথ্যা ভিডিও ও কণ্ঠস্বরের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান এমনকি সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ইসলামের দৃষ্টিতে এসব কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিক নয়; বরং মিথ্যা, অপবাদ ও ফিতনার অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কোরআনে মানুষের ধারণা, তথ্য গ্রহণ ও অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আল্লাহতায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা থেকে বেঁচে থাক; নিশ্চয় কিছু ধারণা পাপ। তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং কেউ কারও গিবত করো না।” (সুরা আল-হুজুরাত: ১২)

    এই নির্দেশনা বর্তমান ডিজিটাল যুগেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ অনেক সময় যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস করা, ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান করা এবং তা প্রচার করার মাধ্যমেই গুজব ও অপপ্রচারের সূচনা হয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি, ভিডিও বা বক্তব্য দেখেই অনেক মানুষ তা যাচাই ছাড়া ছড়িয়ে দেন। অথচ একটি ভুল তথ্য মুহূর্তেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

    পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও; অন্যথায় অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে পরে অনুতপ্ত হবে।” (সুরা আল-হুজুরাত: ৬)

    এই আয়াত তথ্য যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি তুলে ধরে। বর্তমান সময়ে যাকে ফ্যাক্ট-চেকিং বলা হয়, তার মূল শিক্ষা হলো—কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে প্রচার না করা।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই প্রচার করে।” (সহিহ মুসলিম)

    ডিজিটাল মাধ্যমে একটি শেয়ার, ফরোয়ার্ড বা রিপোস্টের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই অনলাইনে কোনো কিছু প্রকাশ করার আগে দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের ফলে এখন এমন ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেখে অনেক সময় বাস্তব ও কৃত্রিমের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

    ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে কারও মুখ, কণ্ঠস্বর বা বক্তব্য পরিবর্তন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। একইভাবে ভুয়া স্ক্রিনশট, বিকৃত ছবি ও প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন ভিডিও ব্যবহার করে মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।

    ইসলামের দৃষ্টিতে এসব কাজ প্রতারণা, মিথ্যা প্রচার ও অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনেক সময় ব্যক্তি, আলেম, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ কিংবা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়। এতে একজন মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    আল্লাহতায়ালা বলেন, “যারা মুমিন পুরুষ ও নারীদের প্রতি এমন অপরাধের অপবাদ দেয় যা তারা করেনি, তারা ভয়ংকর অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।” (সুরা আল-আহযাব: ৫৮)

    ইসলাম প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করা এবং কারও সম্মানহানি করাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করেছে।

    প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; বরং এর ব্যবহারই নির্ধারণ করে এটি কল্যাণের মাধ্যম হবে নাকি ক্ষতির কারণ হবে। তাই প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    ডিজিটাল যুগে প্রতিটি পোস্ট, মন্তব্য, শেয়ার ও ফরোয়ার্ড একটি দায়িত্বের বিষয়। সত্য যাচাই, সততা, ন্যায়বোধ এবং মানুষের সম্মান রক্ষার মানসিকতা থাকলে প্রযুক্তি বিভাজনের কারণ না হয়ে মানবকল্যাণের শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

    কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে তথ্য ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা গড়ে তুললে গুজব, অপপ্রচার ও ডিজিটাল ফিতনার মতো সমস্যাগুলো অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন