রসুন কি সত্যিই কোলেস্টেরল কমায়? যা বলছে গবেষণা

রসুন শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, দীর্ঘদিন ধরে এটি নানা স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যও পরিচিত। বিশেষ করে হৃদ্স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রসুনের ভূমিকা নিয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, নিয়মিত রসুন খেলে কোলেস্টেরল কমে। তবে এই ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন কোলেস্টেরলের মাত্রা কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে, তবে এর প্রভাব সীমিত। তাই উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শে দেওয়া ওষুধ বা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প হিসেবে রসুনকে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
কেন উপকারী মনে করা হয়?
রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামের প্রাকৃতিক যৌগটি রসুন থেঁতো বা কুচি করার পর তৈরি হয়। এ যৌগে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা রক্তনালীর সুরক্ষা এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
গবেষকদের ধারণা, রসুন শরীরে কোলেস্টেরল উৎপাদন ও বিপাক প্রক্রিয়ায়ও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত রসুন খেলে মোট কোলেস্টেরল এবং ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে এই পরিবর্তন সাধারণত খুব বেশি নয়।
অর্থাৎ, শুধু রসুন খেয়ে উচ্চ কোলেস্টেরলকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। ভালো ফল পেতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ জরুরি।
প্রতিদিন কতটা রসুন খাওয়া উচিত?
রসুনের নির্দিষ্ট কোনো দৈনিক মাত্রা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি। তবে ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউট্রিশন সাময়িকীতে প্রকাশিত ২০২৪ সালের এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, টানা দুই মাস প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রাম রসুন গ্রহণ করলে কোলেস্টেরল কমাতে কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে।
তবে অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন রান্নায় এক থেকে দুই কোয়া রসুন ব্যবহারই যথেষ্ট। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রসুন উপকারী হলেও এটি এককভাবে কোনো রোগের কার্যকর চিকিৎসা নয়।