বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

বারুইপুর কাণ্ড: বন্দুকযুদ্ধে নিহত প্রধান অভিযুক্ত, ছেলের মরদেহ দেখতে চান না মা

বারুইপুর কাণ্ড: বন্দুকযুদ্ধে নিহত প্রধান অভিযুক্ত, ছেলের মরদেহ দেখতে চান না মা
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তবে তার মৃত্যুর পরও পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে অপরাধস্থল পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় যায় তদন্তকারী দল। এ সময় অভিযুক্ত হঠাৎ পুলিশের একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে দাবি করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হলে প্রভাস মণ্ডল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার সকালে প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল জানান, পুলিশ সদস্যরা তার কাছে এসে ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং মরদেহ দেখতে চান কি না জানতে চান। তিনি মরদেহ দেখতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, ছেলে যে অপরাধ করেছে, তার পর তাকে আর দেখতে চান না। মরদেহ বাড়িতে আনারও প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।

গত রোববার (৫ জুলাই) বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুইজনকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রেল ও সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্য অভিযুক্তকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, অভিযুক্তের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন