কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে হটানোর বার্তা দিলেন মমতা

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পরও বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে দিল্লি থেকেও বিজেপি সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ধাক্কার পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘আগামী দিনে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হবে’ বলে দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
কলকাতার কালীঘাটে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বলেন, ‘আগামী দিনে দিল্লি থেকে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হবে’। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যাই হোক না কেন, বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই থেকে নেতৃত্ব পিছু হটবে না।’
বিধায়কদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তৃণমূল সূত্রের দাবি, তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে অনেক মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু বর্তমানের মতো কেউ নন। যাকে ক্যামেরায় টাকা নিতে দেখা গেছে, তাকেই মুখ্যমন্ত্রী বানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওরা যা খুশি করুক... আমার বাড়ি ভেঙে দিক, নোটিশ পাঠাক... এসবের কাছে আমি মাথা নত করব না। যা-ই হোক, বিজেপির বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলবে।’
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এবং পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রধান বিচারপতি এইচসি সুজয় পালের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। গত ১৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনজীবীর পোশাক পরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন। সেসময় জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) শুনানিতে অংশ নিতেই তিনি আদালতে যান।
আবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কর্মী ও দলীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে ওই আবেদনে।
কলকাতা, হাওড়া ও বিভিন্ন জেলা শহর থেকে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার জন্য বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরকে দোষারোপ করছে। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সহিংসতায় তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত হয়েছেন।
দৈএনকে/জে, আ