শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে বেইজিং পৌঁছালেন পুতিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত চীন সফরের মাত্র চার দিনের মাথায় বেইজিং সফরে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে পুতিনকে বহনকারী উড়োজাহাজটি বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে রুশ প্রেসিডেন্ট ও তার সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ট্রাম্পের সফরের সময় যেভাবে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল, পুতিনের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের আয়োজন দেখা যায়। সামরিক ব্যান্ডের সঙ্গীত পরিবেশনা, লাল গোলাপ সংবর্ধনা এবং স্বাগত স্লোগানের মধ্য দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মতবিনিময় করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে মস্কোর দূরত্ব বাড়তে থাকে। একই সময়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক সবচেয়ে “সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ” সম্পর্কের উদাহরণ।
বেইজিং পৌঁছানোর আগে চীনের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন “অভাবনীয় উচ্চতায়” পৌঁছেছে। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং বহুবার একে অপরকে “দীর্ঘদিনের ভালো বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
তেল ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে গুরুত্ব
বিশ্লেষকদের ধারণা, পুতিনের এই সফরের পেছনে জ্বালানি তেল ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ এবং রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা।
সম্প্রতি চীন সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফিরে ট্রাম্প দাবি করেন, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক এশিয়া সোসাইটির কর্মকর্তা লায়েল মরিস এএফপিকে বলেন, “চীন রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ এবং পুতিন কোনোভাবেই সেই বাজার হারাতে চান না। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে চীনের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কেও জানতে আগ্রহী মস্কো।”
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক সফরে আশা প্রকাশ করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ভবিষ্যতে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে এই ইস্যুও পুতিন-শি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দৈএনকে/জে, আ