ইসরায়েল ও ইউএই নিয়ে নরেন্দ্র মোদির আবেগঘন মন্তব্য

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলকে ‘পিতৃভূমি’ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার এই মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) পাঁচ দেশীয় সফরের প্রথম ধাপে আবুধাবি পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। বিমানবন্দরে তাকে দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় ‘গার্ড অব অনার’।
বিমানবন্দর থেকেই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও প্রতিনিধি পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমি আমার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছি। এই অনুভূতি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত ও ইউএই ভবিষ্যতে সব ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করবে এবং যেকোনো সংকটে আবুধাবির পাশে থাকবে নয়াদিল্লি।
মোদি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা ও ঐতিহাসিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই সংকট এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল সফরের সময় মোদি দেশটির পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইসরায়েলকে ‘পিতৃভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সাম্প্রতিক এই দুই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করছে—একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানো, অন্যদিকে আরব দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক জোরদার করা।
মোদির সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর একাংশ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, এটি ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে দেওয়া মন্তব্য।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে ভারতের এই কূটনৈতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির কৌশলগত ভূমিকা আরও স্পষ্ট করছে।
দৈএনকে/জে, আ