ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরানোর আহ্বান নেতানিয়াহুর

ইরানের সাথে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি ,বলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কারণ তাদের হাতে এখনও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়ে গেছে। ইরান থেকে এটা অপসারণ করতে হবে। রোববার (১০ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ইরান বহুদিন ধরে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। দেশটির হাতে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কেজির মতো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এটা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর উপকরণ। তবে ইরানের দাবি, তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও এই ধরনের শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।
এই পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু এর মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এই আগ্রাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করা। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ টানা হামলা চালিয়েও তাদের সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। যদিও হরমুজ প্রণালী ঘিরে মাঝে মাঝেই সংঘর্ষ ঘটছে। তবে এর মধ্যে সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে পরোক্ষভাবে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এখন বলছেন, যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছেন, মস্কো ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের দেশে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।
তারই ধারাবাহিকতায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে এবার কথা বললেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। সিবিএস নিউজের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নিতে হবে। এই উদ্যোগ সফল না হওয়া পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে—এমনটা বলা যাবে না।
নেতানিয়াহুর কথায়, ‘এটা (যুদ্ধ) এখনও শেষ হয়নি, কারণ এখনও সেখানে পারমাণবিক উপকরণ আছে—সমৃদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইউরেনিয়াম—এটাকে ইরান থেকে বের করে আনতে হবে। এখনো সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র আছে, যেগুলো অকেজো করে দিতে হবে।’
কীভাবে এই ইউরেনিয়াম সরানো হবে, সে প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘সেখানে (ইরানে) গিয়ে (ইউরেনিয়াম) বের করে নিয়ে আসতে হবে।’ তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এমনটা চিন্তা করেন। তার কথায়, ‘আমি সেনা ব্যবহারের বিষয়ে কোনো কথা বলবো না। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে বলেছেন, তিনি সেখানে যেতে চান।’
তবে জনসম্মুখে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য মেলে না। ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবল চাপের মুখে আছেন ৭৯ বছর বয়সি রিপাবলিকান নেতা। তিনি বরাবরই বলে আসছেন, তেহরানের পরমাণু প্রকল্পকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
রোববার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মত দেন, ‘যুদ্ধের ময়দানে ইরানের পরাজয় ঘটেছে’। তিনি আরও জানান, ‘যখনই ইচ্ছা হবে, তখনই আমরা ওই ইউরেনিয়াম সরিয়ে আনতে পারব’। শারিল অ্যাটকিসনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেটা কোনো এক পর্যায়ে হাতে পাব। যখনই আমরা চাইব।’
‘আমাদের বিষয়টি কড়া নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। যদি কেউ ওই অবস্থানের কাছে যায়, তাহলে আমরা সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারব, এবং আমরা তাদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেব’, যোগ করেন ট্রাম্প।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেয়া প্রশ্নে নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘চাইলে জোর খাটিয়ে নিয়ে আসা যাবে। সেটা কোনো সমস্যা নয়। তবে যদি একটি চুক্তির মাধ্যমে সেখান থেকে জিনিসটা বের করে আনা যায়, তাহলে কেন নয়? এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়’।
লুকিয়ে রাখা ইউরেনিয়াম বের করে আনার জন্য সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, সম্ভাব্য পরিকল্পনা বা এ ধরনের কোনো কিছু নিয়ে কোনো কথা বলব না আমি।’
‘আমি এর জন্য কোনো সময়সীমা বেধে দিচ্ছি না। তবে আমি এটুকু বলবো যে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিযান হবে’, বলেন নেতানিয়াহু। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি ছাড়াও চলমান যুদ্ধের আরও বেশ কয়েকটি লক্ষ্যপূরণ হতে বাকি আছে বলে মনে করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখনো অনেক গোষ্ঠী ইরানের সমর্থন পেয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করতে চায় না। আমরা অনেকাংশেই তাদের সেই উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে আনতে পেরেছি। কিন্তু এখনো তা পুরোপুরি নিঃশেষিত হয়নি এবং আরও অনেক কাজ বাকি আছে।’
দৈএনকে/জে, আ