৫ হাজার টাকার পুঁজি থেকে রাজিয়ার নান্দনিক পণ্য পৌঁছেছে ৯ দেশে

চাকরির পেছনে দীর্ঘদিন ছোটার পরও যখন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি, তখন হতাশ হয়ে থেমে যাননি রাজিয়া সুলতানা। বরং সীমিত সামর্থ্য আর প্রবল আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজেই গড়ে তুলেছেন নতুন সম্ভাবনার পথ। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা ছোট্ট উদ্যোগ এখন পৌঁছে গেছে বিশ্বের ৯টি দেশে। নীলফামারীর সৈয়দপুরের এই নারী উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প এখন অনেক নারীর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা দুই সন্তানের জননী। সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিজের আলাদা পরিচয় গড়ার স্বপ্ন থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু তার। পাটসুতা ও কটন সুতার তৈরি ব্যাগ, পার্স, মানিব্যাগ, টেবিল ম্যাট, শোপিস ও দোলনার মতো নান্দনিক পণ্য উৎপাদন করছেন তিনি। ‘নান্দনিক ক্রাফট’ নামের প্রতিষ্ঠানটির পণ্য এখন সৌদি আরব, কাতার, দুবাই ও জাপানসহ বিশ্বের ৯টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
রাজিয়া জানান, শুরুতে পুঁজি ও অভিজ্ঞতা দুইয়েরই অভাব ছিল। এক বন্ধুর পরামর্শে অনলাইন উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণে যুক্ত হন তিনি। পরে ইউটিউব দেখে বিভিন্ন কৌশল শেখেন। পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণও তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
২০২০ সালে সন্তানের জমানো মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ফেসবুকে একটি পেজ খুলে শুরু হয় ‘নান্দনিক ক্রাফট’-এর যাত্রা। স্থানীয় মেলা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পরিচিতি ও অর্ডার। একসময় ঘরোয়া উদ্যোগটি পরিণত হয় ছোট একটি কারখানায়।
বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ জন নারী কাজ করছেন। তাদের আয় দিয়ে পরিবার চালাতে পারছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এলাকাতেও প্রশংসিত হচ্ছেন রাজিয়া।
তিনবার ‘জয়িতা’ নির্বাচিত এই নারী উদ্যোক্তা বলেন, “আমি চাই নান্দনিক ক্রাফট শুধু ব্যবসা নয়, নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠুক। অনেক নারী যেন এখান থেকে সাহস পায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
মাত্র পাঁচ হাজার টাকার ছোট্ট উদ্যোগ আজ আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। রাজিয়ার এই পথচলা প্রমাণ করেছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে সীমাবদ্ধতাও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।