তেলেগু, তামিল, মালয়ালামে ‘আন্ধাধুন’ রিমেকের গল্প

বলিউড ও দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক বহুদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রিমেক সংস্কৃতির আলোচনায় ঘুরপাক খায়। সাধারণ অভিযোগ রয়েছে, বলিউড নাকি দক্ষিণী সিনেমা থেকে গল্প নিয়ে রিমেক বানায়। তবে এর বিপরীত উদাহরণও কম নয়। সেই ব্যতিক্রমী তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘আন্ধাধুন’।
২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া আয়ুষ্মান খুরানা অভিনীত এই ব্ল্যাক কমেডি থ্রিলার ভারতীয় চলচ্চিত্রে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অন্ধ পিয়ানোবাদকের রহস্যময় জীবন, খুন, প্রতারণা ও ডার্ক হিউমারের মিশেলে নির্মিত ছবিটি দর্শক ও সমালোচক উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়।
ছবিটির জনপ্রিয়তা এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে বলিউড নয়, বরং দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিগুলো একে একে এর রিমেক তৈরি করে। ২০২১ সালে তেলেগু ভাষায় ‘মায়েস্ত্রো’ মুক্তি পায়, যেখানে অভিনয় করেন নীতিন, তামান্না ভাটিয়া ও নবহা নাটেশ। একই বছরে মালয়ালাম সংস্করণ ‘ভ্রমম’ আসে, যা ওটিটিতে মুক্তি পায় এবং পৃথ্বীরাজ সুকুমারনসহ অন্যান্য অভিনয়শিল্পীরা এতে অভিনয় করেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘ নির্মাণ জটিলতা কাটিয়ে ২০২৪ সালে মুক্তি পায় তামিল সংস্করণ ‘আন্ধাগান’। প্রশান্ত অভিনীত এই ছবিটি মূল গল্পের সঙ্গে কিছু স্থানীয় টুইস্ট যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়।
তিনটি রিমেকেই মূল গল্পের আত্মা অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মত। তাদের মতে, ‘আন্ধাধুন’-এর সাফল্য প্রমাণ করে—একটি শক্তিশালী গল্প ভাষার সীমা পেরিয়ে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতেও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, ‘আন্ধাধুন’ শুধু একটি সফল বলিউড সিনেমা নয়, বরং এটি এমন একটি উদাহরণ—যা প্রমাণ করে ভালো গল্প শেষ পর্যন্ত সব ইন্ডাস্ট্রিকেই প্রভাবিত করতে সক্ষম।