বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • শতাব্দীপ্রাচীন রহস্য ‘নীল সূর্য’ নিয়ে নতুন তথ্য

    শতাব্দীপ্রাচীন রহস্য ‘নীল সূর্য’ নিয়ে নতুন তথ্য
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ১৮৩১ সাল; বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় এক অদ্ভুত ও আতঙ্কিত করার মতো বছর। সেই সময়ে হঠাৎ করেই আকাশের চিরচেনা তপ্ত সূর্য নীল বর্ণ ধারণ করেছিল এবং কয়েক মাস ধরে এক ভুতুড়ে ঠান্ডায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল পুরো পৃথিবী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহাসিক এবং বিজ্ঞানীরা এই ব্যাখ্যাতীত ঘটনার রহস্য উন্মোচনে হিমশিম খেলেও, দীর্ঘ ২০০ বছর পর গবেষকরা অবশেষে এর একটি বৈজ্ঞানিক সমাধানে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে দাবি করছেন।

    অগ্ন্যুৎপাতের প্রলয় ও নীলচে আভা

    নতুন গবেষণা অনুসারে, ১৮৩১ সালের এই নাটকীয় ঘটনার নেপথ্যে ছিল একটি বিশাল আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লক্ষ লক্ষ টন ছাই এবং সূক্ষ্ম কণা বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই কণাগুলো সূর্যের আলোকে এমনভাবে প্রতিফলিত ও বিচ্ছুরিত (Rayleigh scattering) করেছিল যে, সারা বিশ্বের পর্যবেক্ষকদের কাছে সূর্যকে নীলচে বা এমনকি সবুজ দেখাচ্ছিল।

    একই সাথে, বায়ুমণ্ডলে থাকা এই কণাগুলো সূর্যালোক পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে এক নাটকীয় বৈশ্বিক শীতলীকরণ প্রভাব সৃষ্টি হয়, যা কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক কঠোর আবহাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ফসলহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে ‘পৃথিবীর শেষ দিন’

    সেই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের ডায়েরি ও বিবরণে উঠে এসেছে এক হাড়কাঁপানো দৃশ্য। দিনের বেলা আকাশ থাকত নীল বা ল্যাভেন্ডার রঙের, আর রাতে নক্ষত্রগুলো দেখা যেত অস্বাভাবিক উজ্জ্বল। সবচেয়ে ভীতিজনক ছিল ঋতুর পরিবর্তন; বছরের যে মাসগুলোতে সাধারণত উষ্ণ আবহাওয়া থাকার কথা, সেই সময়েও প্রবল তুষারপাত ঘটেছিল। অনেক সম্প্রদায়ের মানুষ তখন আতঙ্কে নিমজ্জিত হয়ে ভেবেছিলেন, এটি হয়তো পৃথিবীর শেষ হওয়ার কোনো স্বর্গীয় সংকেত।

    ভঙ্গুর জলবায়ু ও ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা

    এই আবিষ্কারটি কেবল একটি ঐতিহাসিক রহস্যের সমাধানই করেনি, বরং আমাদের গ্রহের জলবায়ুর ভঙ্গুরতাকে আবারও সামনে এনেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো অগ্ন্যুৎপাত বা বৈশ্বিক দুর্যোগ ঘটলে প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপ আবারও ফিরে আসতে পারে।

    ইতিহাসপ্রেমী এবং আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য এটি একটি বিস্ময়কর তথ্য হলেও, এটি প্রকৃতির অসীম ক্ষমতার এক ভয়াবহ অনুস্মারক। আমাদের বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য সামান্য বিঘ্নিত হলে সূর্যের মতো স্থির নক্ষত্রও বদলে যেতে পারে—আর প্রকৃতি রাতারাতি পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার ক্ষমতা রাখে।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ