সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

বাজেটে কর-শুল্ক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের দাবি এমসিসিআইয়ের

বাজেটে কর-শুল্ক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের দাবি এমসিসিআইয়ের
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। সংগঠনটি বলছে, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে প্রয়োজন একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল—‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২০২৭: বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি’। এতে আইসিএবির সাবেক সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন এবং ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আক্তার মালা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৫% থেকে ৭.৩% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কর ব্যবস্থায় আস্থার ঘাটতি দূর করার ওপর জোর দেয় এমসিসিআই।

সংগঠনটির মতে, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। এজন্য কর ফাইল খোলার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, অনুমানভিত্তিক কর নির্ধারণ বন্ধ করা এবং কর সংক্রান্ত শুনানিতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

ভ্যাট ও কাস্টমস খাতে সহজীকরণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে এমসিসিআই। এসএমই খাতকে সহায়তা দিতে ভ্যাটের ন্যূনতম সীমা (থ্রেশহোল্ড) বাড়ানো, কাস্টমস রিফান্ড প্রক্রিয়া অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজ করা এবং শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে জিরো কুপন বন্ড ও ট্রেজারি বন্ডে কর ছাড় এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমান (আইএফআরএস) অনুযায়ী আয়কর আইন সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি কর ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে মোট রাজস্বের প্রায় ৬৬ শতাংশই পরোক্ষ কর থেকে আসে, যা নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করে সংগঠনটি।

ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে রিস্ক-বেজড অডিট ব্যবস্থা চালু, কর মামলায় প্রাক-ডিপোজিট ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, টিডিএস হার পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর টিডিএস ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণের মতো প্রস্তাবও উঠে আসে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আহরণ বাড়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন