ওহুদ যুদ্ধের ময়দানে শূন্যে ভাসছিল দেহ; কী দেখেছিলেন সাহাবীরা?

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু আত্মত্যাগের ঘটনা রয়েছে যা আজও মুমিন হৃদয়ে শিহরণ জাগায়। তেমনই এক শিহরণ জাগানো নাম হজরত হানজালা (রা.)। ওহুদ যুদ্ধের তপ্ত ময়দানে তাঁর শাহাদাত কেবল এক বীরের প্রস্থান ছিল না, বরং তা ছিল আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার এক স্বর্গীয় নিদর্শন। বাসর রাতের সুখ বিসর্জন দিয়ে স্রষ্টার ডাকে সাড়া দেওয়া এই সাহাবীকে বরণ করে নিতে আসমান থেকে নেমে এসেছিল স্বয়ং ফেরেশতারা।
বাসর ঘরের ডাক বনাম জিহাদের ডাক
ঘটনাটি ওহুদ যুদ্ধের সময়কার। হানজালা (রা.)-এর বিয়ের মাত্র এক দিন পার হয়েছে। বাসর রাতে যখন তিনি নববধূর সাথে সময় কাটাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কানে এলো যুদ্ধের ঘোষণা— “জিহাদের ময়দানে চলো!” সেই মুহূর্তে শাহাদাতের তামান্না এবং আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাঁকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। বাসর ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তিনি এতটাই তাড়াহুড়ো করেছিলেন যে, জানাবত বা নাপাক অবস্থায় (গোসল করার আগেই) তলোয়ার হাতে ময়দানের দিকে ছুটে যান।
যুদ্ধের ময়দানে অলৌকিক দৃশ্য
ওহুদ যুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করতে করতে এক পর্যায়ে শাহাদাত বরণ করেন হানজালা (রা.)। যুদ্ধের সমাপ্তিতে যখন সাহাবীরা শহীদদের লাশের সন্ধান করছিলেন, তখন তাঁরা এক বিস্ময়কর দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। সাহাবীরা দেখলেন, হানজালার দেহটি মাটি থেকে কিছুটা ওপরে শূন্যে ভেসে আছে এবং মেঘের আড়াল থেকে রূপালি পাত্র হাতে কিছু ছায়ামূর্তি তাঁকে ঘিরে রেখেছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাসিমুখ ও ‘গাসিলুল মালাইকা’
সেই অভাবনীয় দৃশ্য দেখে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ মুচকি হাসলেন। তিনি সাহাবীদের উদ্দেশ্য করে বললেন, “তোমরা কি দেখছ? আসমান থেকে ফেরেশতারা এবং জান্নাতের হুররা স্বর্ণের পাত্রে জান্নাতি সুধায় হানজালাকে গোসল করাচ্ছে!”
যেহেতু তিনি বাসর রাতের সুখ এবং ব্যক্তিগত পবিত্রতার সময়টুকুও ত্যাগ করে আল্লাহর ডাকে লড়তে এসেছিলেন, তাই আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন। এই অলৌকিক ঘটনার কারণেই তাঁকে ইসলামের ইতিহাসে ‘গাসিলুল মালাইকা’ বা ‘ফেরেশতাদের দ্বারা গোসল করানো ব্যক্তি’ হিসেবে অবিহিত করা হয়।
ত্যাগের শিক্ষা
হানজালা (রা.)-এর এই কাহিনী আমাদের শেখায় যে, যখন কোনো মানুষ আল্লাহর জন্য তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু বা সময় বিসর্জন দেয়, আল্লাহ তাঁকে এমন মর্যাদা দান করেন যা মানুষের কল্পনাতীত। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী বাসর রাতের পরিবর্তে আল্লাহ তাঁকে জান্নাতি সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন।
দৈএনকে/জে, আ