সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ভয়াবহ ভূমিকম্পেও অটুট মাতৃত্ব, জীবিত উদ্ধার মা ও শিশু সিটি করপোরেশন বাদে বিরোধী আসনে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব চাকরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা নয়, কর্মসংস্থান তৈরি করবে তরুণরা: প্রধানমন্ত্রী বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর হারারে টেস্টে বাংলাদেশের হতাশা, বড় লিড গড়ছে জিম্বাবুয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা আবেদন কঠিন হচ্ছে? নতুন নীতিতে কী কী বদলাল ইসরায়েল কি হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন? মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার
  • ইসলামি পারিবারিক আইনে বিবাহের সীমারেখা

    ইসলামি পারিবারিক আইনে বিবাহের সীমারেখা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ইসলামি পারিবারিক আইনের অন্যতম ভিত্তি হলো বিবাহের পবিত্রতা এবং রক্ত ও দুগ্ধ সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির নারীকে পুরুষের জন্য বিবাহ করা চিরতরে হারাম ঘোষণা করেছেন। এই বিধানগুলো মূলত সামাজিক শৃঙ্খলা এবং পারিবারিক কাঠামোর পবিত্রতা নিশ্চিত করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

    বংশগত কারণে নিষিদ্ধ (৭ জন)

    রক্তের সম্পর্কের কারণে সাত শ্রেণির নারী পুরুষের জন্য চিরস্থায়ীভাবে হারাম:

    ১. মা: নিজের মা, দাদি, নানি এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন নারীগণ।

    ২. কন্যা: নিজের মেয়ে, নাতনি এবং তাঁদের নিম্নতম বংশধর।

    ৩. বোন: আপন বোন, সৎ বোন (বাবার দিক থেকে বা মায়ের দিক থেকে)।

    ৪. ফুফু: বাবার আপন বোন এবং বাবার সৎ বোন।

    ৫. খালা: মায়ের আপন বোন এবং মায়ের সৎ বোন।

    ৬. ভাতিজি: আপন বা সৎ ভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের নিম্নতম বংশধর।

    ৭. ভাগনি: আপন বা সৎ বোনের মেয়ে এবং তাদের নিম্নতম বংশধর।

    দুধপানের কারণে নিষিদ্ধ (২ জন)

    শিশু অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত দুই বছরের মধ্যে) কোনো মহিলার দুধ পান করলে তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ হয়ে যায়:

    ৮. দুধমা: যিনি দুধ পান করিয়েছেন এবং তাঁর মা (দুধ দাদি/নানি)।

    ৯. দুধবোন: একই মহিলার দুধ পান করা অন্য মেয়ে শিশু।

    (নোট: বংশগত কারণে যারা হারাম হয়, দুধপানের কারণেও তাঁরাই হারাম হয়)।

    বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে নিষিদ্ধ (৪ জন)

    ১০. শাশুড়ি: স্ত্রীর মা এবং তাঁর দাদি/নানি। (স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও শাশুড়ি চিরতরে হারাম)।

    ১১. স্ত্রীর আগের পক্ষের কন্যা: যদি স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে থাকে। ১

    ২. পুত্রবধূ: আপন পুত্রের স্ত্রী (তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা হলেও)।

    ১৩. সৎ মা: পিতার স্ত্রী (পিতার মৃত্যুর পর বা বিচ্ছেদের পর তাঁকে বিবাহ করা হারাম)।

    একসাথে রাখা হারাম (সাময়িক নিষিদ্ধ)

    ১৪. দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা: আপন দুই বোনকে একই সঙ্গে স্ত্রী হিসেবে রাখা হারাম। তবে এক বোনের মৃত্যু হলে বা তালাকের ইদ্দত শেষ হলে অন্য বোনকে বিয়ে করা বৈধ।

    অন্যান্য বিশেষ নিষিদ্ধ ক্ষেত্র

    • অন্যের বিবাহাধীন নারী: কোনো নারী অন্য পুরুষের বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় তাঁকে বিয়ে করা হারাম।

    • মূর্তিপূজারি বা মুশরিক নারী: ইসলামি বিধান অনুযায়ী ঈমান না আনা পর্যন্ত মূর্তিপূজারি বা নাস্তিক নারীকে বিবাহ করা মুসলিম পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ (কিতাবিয়া অর্থাৎ ইহুদি বা খ্রিস্টান নারী বাদে)।

    • তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী: স্বামী নিজ স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে পুনরায় তাঁকে বিবাহ করা হারাম, যতক্ষণ না নির্দিষ্ট শরিয়তি প্রক্রিয়া (হালালা নয়, স্বাভাবিক দ্বিতীয় বিয়ে ও বিচ্ছেদ) সম্পন্ন হয়।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ