শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রাজধানীর জোয়ারসাহারায় চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট মতভেদ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, জাতীয় ঐক্যে জোর প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা পুরস্কার দিতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান জিরো এমিশন ইস্যুতে বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী লো-ফিডে উৎপাদন অব্যাহত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের নিয়ন্ত্রণে কড়া সমালোচনা উইজডেনের অনলাইন ক্লাস না চাইলেও বাস্তবতায় বাধ্য: শিক্ষামন্ত্রী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত গিরিশ চন্দ্রের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর হাসনাতের সঙ্গে কী হয়েছিল বিস্তারিত জানালেন মনজুর আলম
  • পরনিন্দা ও মিথ্যা অপবাদ: কেন গুজব ছড়ানো কবিরা গুনাহ?

    পরনিন্দা ও মিথ্যা অপবাদ: কেন গুজব ছড়ানো কবিরা গুনাহ?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গুজব বা ভিত্তিহীন সংবাদ মুহূর্তেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে ব্যক্তি, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রও চরম বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার মুখে পড়ছে। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, সত্যতা যাচাই না করে কোনো কথা রটানো বা গুজব ছড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি কবিরা গুনাহ। ইসলাম সমাজকে শান্ত ও সুশৃঙ্খল রাখতে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

    পবিত্র কুরআনের দ্ব্যর্থহীন নির্দেশনা

    গুজব বা মিথ্যা সংবাদ যেন সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, সেজন্য মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন:

    “হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে। যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।” (সূরা হুজুরাত, আয়াত: ৬)

    এই আয়াতটি গুজবের বিরুদ্ধে ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষাকবচ। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেকোনো তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা বা অন্যের কাছে প্রচার করা যাবে না।

    হাদিসের আলোকে গুজবের ভয়াবহতা

    রাসূলুল্লাহ (সা.) গুজব ছড়ানোকে মিথ্যুক হওয়ার লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:

    • “কোনো ব্যক্তি মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) তা-ই বর্ণনা করে।” (সহিহ মুসলিম)

    • কিয়ামতের আগে মিথ্যার আধিপত্য বাড়বে বলে তিনি সতর্ক করেছেন এবং মুমিনদের এ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

    গুজবের সামাজিক ও ধর্মীয় পরিণতি

    ১. ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা: গুজব সমাজে ঘৃণা, হিংসা ও দাঙ্গা সৃষ্টি করে। ইসলামে ফিতনা সৃষ্টি করাকে হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

    ২. মানহানি: গুজবের মাধ্যমে অনেক সময় নিরপরাধ মানুষের সম্মানহানি করা হয়। ইসলামে একজনের সম্মান অন্যজনের কাছে হারাম করা হয়েছে।

    ৩. পরকালীন শাস্তি: যারা জেনে-বুঝে মিথ্যা অপবাদ বা গুজব ছড়ায়, তাদের জন্য পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

    গুজব প্রতিরোধে একজন মুমিনের দায়িত্ব

    ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, গুজব প্রতিরোধে ৩টি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

    • যাচাই করা: প্রাপ্ত তথ্যের উৎস এবং সত্যতা নিশ্চিত হওয়া।

    • নীরবতা পালন: যদি তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না যায়, তবে তা প্রচার না করে চুপ থাকা।

    • সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো: কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সমাধান করা।

    গুজব কেবল ব্যক্তির ক্ষতি করে না, এটি একটি সুন্দর সমাজকে ভেতর থেকে পচিয়ে দেয়। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ব্যক্তিগত আলাপে যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে আমাদের ভাবা উচিত—এটি সত্য তো? কারণ আমাদের প্রতিটি কথার জন্য কিয়ামতের মাঠে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ