পবিত্র কুরআনের আলোকে যারা লাভ করেন স্রষ্টার ভালোবাসা

ইসলামি আকিদাহ অনুযায়ী, মহান আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ সার্থকতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন তিনি কাদের ভালোবাসেন এবং কাদের পছন্দ করেন না। আল্লাহর ভালোবাসা লাভের এই গুণগুলো মূলত একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ ও আদর্শ মুমিন হিসেবে গড়ে তোলে।
১. মুত্তাকী বা খোদাভীরু
যারা জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহকে ভয় করে চলেন এবং পাপাচার থেকে বেঁচে থাকেন, আল্লাহ তাঁদের ভালোবাসেন।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের (খোদাভীরু) ভালোবাসেন।" (সূরা তাওবা, আয়াত: ৪)
২. ইহসানকারী বা সৎকর্মশীল
যারা মানুষের উপকার করেন এবং যেকোনো কাজ অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেন, তাঁরা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয়।
"আর তোমরা সৎকর্ম করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।" (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫)
৩. তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারী
মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু যারা ভুলের পর লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে পবিত্র থাকে, আল্লাহ তাঁদের পছন্দ করেন।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাঁদেরও ভালোবাসেন।" (সূরা বাকারা, আয়াত: ২২২)
৪. সবরকারী বা ধৈর্যশীল
বিপদ-আপদে বিচলিত না হয়ে যারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে ধৈর্য ধারণ করেন, আল্লাহ তাঁদের সঙ্গী হন এবং তাঁদের ভালোবাসেন।
"আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।" (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১৪৬)
৫. তাওয়াক্কুলকারী বা নির্ভরশীল
যেকোনো কাজের পর ফলাফলের জন্য যারা মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখেন, আল্লাহ তাঁদের ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর ওপর) নির্ভরশীলদের ভালোবাসেন।" (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১৫৯)
৬. ন্যায়বিচারক (The Just)
যারা নিজের বিচার-আচার, পরিবার এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকেন এবং ইনসাফ কায়েম করেন, আল্লাহ তাঁদের ভালোবাসেন।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠদের ভালোবাসেন।" (সূরা মায়িদা, আয়াত: ৪২)
৭. যারা নবীজিকে (সা.) অনুসরণ করেন
আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় শর্ত হলো তাঁর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণ করা।
"(হে নবী!) আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।" (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩১)
দৈএনকে/জে, আ