সালাম ও মাহে আলমের সম্পদের পাহাড়: ডিপিই-তে দুর্নীতির রাজত্ব

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অন্দরে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর দুর্নীতির সাম্রাজ্য। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছেন সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক (নৌ-পথ) মো. আব্দুস সালাম এবং তার ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত টাইপিস্ট মো. মাহে আলম। ব্রিজ ক্লিয়ারেন্স বাণিজ্য, ভুয়া টিএ/ডিএ বিল এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে তারা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
ব্রিজ ক্লিয়ারেন্সের নামে ‘ডিজিটাল হয়রানি’
তদন্তে জানা গেছে, এলজিইডি, সওজ ও রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ব্রিজের উচ্চতা ও প্রশস্ততার অনাপত্তিপত্র (NOC) নিতে আসে, তখনই শুরু হয় এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। অনৈতিক চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ফাইল আটকে রাখা বা অহেতুক ‘রিভিউ’-এর নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি নদীর ভুল ক্লাসিফিকেশন দেখিয়ে ব্রিজের উচ্চতা কমিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দিয়েও বড় অংকের ঘুষ লেনদেনের তথ্য মিলেছে।
আকাশপথে যাতায়াত ও রাজকীয় বিলাসিতা
অভিযোগ অনুযায়ী, সাইট পরিদর্শনের নামে তারা আবেদনকারীদের খরচে আকাশপথে ভ্রমণ করেন এবং ভিআইপি হোটেলে অবস্থান করেন। অথচ দপ্তর থেকে আবারও ভুয়া টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। একজন সাধারণ টাইপিস্ট হয়েও মাহে আলমের জীবনযাপন রূপকথাকেও হার মানায়। তার বর্তমান বেতন মাত্র ৩৫ হাজার টাকা হলেও ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি।
ধরাছোঁয়ার বাইরে কুশীলবরা
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অনেক কর্মকর্তা ওএসডি বা বদলি হলেও রহস্যজনকভাবে বহাল তবিয়তে আছেন সালাম ও আলম। অভিযোগ উঠেছে, ঊর্ধ্বতন মহলে শক্ত খুঁটির জোর এবং অবৈধ অর্থের ভাগবাটোয়ারা নিশ্চিত করে তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। কোনো কারিগরি জ্ঞান না থাকলেও টাইপিস্ট মাহে আলম নীতিনির্ধারণী সভায় উপস্থিত থেকে নথিপত্রে প্রভাব বিস্তার করেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুস সালাম প্রতিবেদকের কাছে সোর্সের নাম জানতে চান এবং দম্ভোক্তি করে বলেন, "সোর্সের নাম না বললে আপনারা যা ইচ্ছে লিখতে পারেন, তাতে আমার যায় আসে না।" অন্যদিকে, টাইপিস্ট মাহে আলমকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।