প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন জিয়া হায়দার

বিশ্বব্যাংকের সাবেক সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নিয়োগের বিস্তারিত ও পদমর্যাদা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে এই নিয়োগ প্রদান করেছেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতাদি এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্ণাঢ্য পেশাদার জীবন ড. জিয়া হায়দার একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ৩৫টি দেশে টেকসই স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনউন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর কাজ করেছেন। সবশেষ তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অ্যাডজাঙ্কট সহযোগী অধ্যাপক’ হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় পেশাদারিত্বের বাইরে ড. জিয়া হায়দারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও উল্লেখযোগ্য। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও যুক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নৈকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা ড. জিয়া হায়দারের বাবা মরহুম হরমুজ আলী ছিলেন একজন সিনিয়র সহকারী সচিব। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ড. জিয়া সবার বড়। তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও চিকিৎসা ও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ড. জিয়া হায়দার ১৯৮৮ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ফিলিপাইন ইউনিভার্সিটি থেকে খাদ্য ও পুষ্টি পরিকল্পনায় মাস্টার্স এবং সুইডেনের উমিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পুষ্টি ও মহামারিবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশাদার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. জিয়া হায়দারের এই নিয়োগ স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।