মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

এক গ্লাস বিটরুট শরবতেই ত্বকের সজীবতা ফিরে আসে

এক গ্লাস বিটরুট শরবতেই ত্বকের সজীবতা ফিরে আসে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

চেহারায় রক্তাল্পতা জনিত ফ্যাকাসে ভাব কেবল একটি সৌন্দর্যগত সমস্যা নয়; এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ অসুস্থতা এবং জীবনীশক্তি কমে যাওয়ার এক দৃশ্যমান সংকেত। কৃত্রিম প্রসাধনী দিয়ে সাময়িকভাবে ত্বকের দাগ ঢাকা গেলেও, শরীরের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত রক্ত লাবণ্যকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আপনার রান্নাঘরে থাকা ‘বিটরুট’ হতে পারে এই সমস্যার এক প্রাকৃতিক ও শক্তিশালী সমাধান।

বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি: ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির গবেষণা
২০২৪ সালে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত ‘বেটালাইনস এন্ড স্কিন মাইক্রোসার্কুলেশন’ শীর্ষক এক গবেষণায় বিটরুটের অভাবনীয় ক্ষমতার কথা জানানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিটরুটের উচ্চমাত্রার আয়রন এবং ‘বেটানিন’ সরাসরি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি ত্বকের প্রতিটি কোষে অক্সিজেনের প্রবাহ সচল করে তোলে, যা ফ্যাকাসে ভাব দূর করে প্রাকৃতিকভাবে গোলাপি উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

রক্ত পরিষ্কার ও লিভারের সুরক্ষা
বিটরুট কেবল ত্বকের উপরিভাগের জেল্লাই বাড়ায় না, এটি একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবেও কাজ করে। এটি লিভার পরিষ্কার রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। রক্তে নতুন লোহিত কণিকা তৈরির মাধ্যমে এটি শরীরকে ভেতর থেকে চনমনে করে তোলে, যার প্রতিফলন ঘটে আপনার চেহারায়।

ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
গবেষণার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ সুফল পেতে সপ্তাহে অন্তত চার দিন দুপুরে খাবারের এক ঘণ্টা আগে এক গ্লাস তাজা বিটরুটের শরবত পান করা উচিত। স্বাদ ও কার্যকারিতা বাড়াতে এর সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যা বিটরুটের আয়রন শোষণে শরীরকে আরও সাহায্য করবে।

দামী কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম বা প্রসাধনীর ওপর নির্ভরশীল না হয়ে প্রাকৃতিক এই ‘সুপারফুড’ হতে পারে তারুণ্য ধরে রাখার শ্রেষ্ঠ উপায়। সচেতন খাদ্যাভ্যাস এবং বিটরুটের মতো ওষধি উপাদানের ব্যবহার আপনাকে উপহার দিতে পারে একটি আত্মবিশ্বাসী ও সুন্দর দীর্ঘ জীবন।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন