মলদোভার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে, তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে; আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)–এর নির্বাহী বোর্ড ২০২৫ সালের আর্টিকেল আইভি পরামর্শ কার্যক্রম শেষে মলদোভা প্রজাতন্ত্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশটির কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট স্টাফ রিপোর্ট প্রকাশে সম্মতি দিয়েছে এবং পরবর্তী আর্টিকেল আইভি পরামর্শ নিয়মিত ১২ মাসের চক্র অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
বহুমুখী ধাক্কার পর মলদোভার অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি ২.৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২.৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভালো কৃষি উৎপাদন, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করছে। মজুরি ও ঋণ বৃদ্ধির ফলে গৃহস্থালি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ জোরদার হয়েছে এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্প্রসারণের কারণে শিল্প উৎপাদনও বেড়েছে। তবে দুর্বল রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করছে এবং চলতি হিসাব ঘাটতি বাড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতি শিগগিরই জাতীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ± ১.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাঝারি মেয়াদে উচ্চতর বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিমুখী সংস্কারের ফলে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি বাড়বে, যদিও শ্রমশক্তির ঘাটতি একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে থাকবে। ইউক্রেন যুদ্ধ, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইইউ গ্রোথ প্ল্যান বাস্তবায়নে বিলম্ব প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি করছে, পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ বজায় রয়েছে।
দেশটির দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে উচ্চ হারে অভিবাসন, কম প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা। ইইউতে যোগদানের প্রক্রিয়া এবং ইইউ গ্রোথ প্ল্যান এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কাঠামোগত সংস্কার এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি প্রয়োজন।
রাজস্ব খাতে ২০২৬ সালে আর্থিক ঘাটতি জিডিপির ৪.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা মূলত মূলধনী ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং কিছু চলতি ব্যয় বৃদ্ধির ফল। পরিকল্পিত কর সংস্কার এ চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর কাঠামো সরলীকরণ এবং বিশেষ করে ভ্যাট অব্যাহতি কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি মজুরি সংস্কারকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যয় অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দিয়ে মেটানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূলধনী ব্যয় বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ব্যাংক ২০২৫ সালের শুরুর দিকে জ্বালানি ধাক্কার পর মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে সুদের হার সমন্বয় মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির গতিপথের ওপর নির্ভরশীল ও সতর্ক কৌশলে নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক আমানতের ওপর উচ্চ রিজার্ভ প্রয়োজনীয়তা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কমলে ধীরে ধীরে হ্রাস করার সুপারিশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সুশাসন আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বিনিময় হার নমনীয় রাখা ও পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দ্রুত ঋণ বৃদ্ধি ও আবাসন মূল্যের ঊর্ধ্বগতি সম্ভাব্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে ঋণগ্রহীতা-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক তদারকি উন্নয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংকট ব্যবস্থাপনা ও অর্থপাচারবিরোধী কাঠামো শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার এগিয়ে নেওয়া, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা এবং সরকারি সম্পদ সুরক্ষিত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, দক্ষতার অমিল দূর করা এবং অবকাঠামো ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ইইউ গ্রোথ প্ল্যান ও ইইউ সদস্যপদ সংশ্লিষ্ট সংস্কারসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মত দিয়েছে আইএমএফ নির্বাহী বোর্ড।
সূত্র: মলদোভান কর্তৃপক্ষ ও আইএমএফ