র্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্তির দাবি সাবেক সেনাপ্রধানের

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত এক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা উচিত এবং ডিজিএফআইকেও ভেঙে দেওয়া দরকার। তাঁর ভাষায়, এসব সংস্থা ‘আয়নাঘর’-এর মতো অপসংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে এবং টিকে থাকার নৈতিক বৈধতা হারিয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, অনেকে মনে করছেন তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তাঁর ব্যাখ্যা, বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই—সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে এবং আত্মশুদ্ধির এই সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট করা উচিত নয়।
শতাধিক মানুষ গুম ও হত্যার অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিচ্ছেন। এর আগে রোববার তিনি প্রথম দিনের জবানবন্দি দেন। মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান জানান, ক্রসফায়ার বন্ধ না হওয়ায় তিনি ডিজিএফআই, বিজিবি ও র্যাব থেকে সেনা কর্মকর্তাদের পোস্টিং বন্ধ করে দেন। এ সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যা দিলেও তাঁর বক্তব্য ছিল—হাশরের ময়দানে আল্লাহর কাছে জবাব দেওয়াই তাঁর কাছে মুখ্য। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে তাঁকে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়তে হয় এবং র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ নিজে এসে অফিসার দেওয়ার অনুরোধ জানান, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে হোটেল র্যাডিসন উদ্বোধনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও র্যাবে সেনা কর্মকর্তা দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে জনবল সংকটের কথা জানিয়ে তিনি সে অনুরোধও নাকচ করেন এবং অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে চাপ অব্যাহত ছিল।
র্যাবের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, তাঁর দায়িত্বকাল ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু করতে না পারার বেদনা তাঁকে সারাক্ষণ তাড়িত করেছে। এখন সেই ব্যর্থতার জায়গা থেকে সত্য প্রকাশের সুযোগ এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, দোষীদের বিচারের আওতায় আনলে সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ণ হবে না; বরং এতে প্রমাণ হবে সেনাবাহিনী কখনো অপরাধীদের রক্ষা করে না।
জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি তাঁকে জেরা করেন। এক প্রশ্নের উত্তরে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, তিনি একজন ‘ডিহিউম্যানাইজড’ সেনা কর্মকর্তা এবং চার দশকের চাকরিজীবনে মানুষ হত্যা করার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন—যা পৃথিবীর সব সেনাসদস্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
আজকের মতো জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী জেরা অনুষ্ঠিত হবে।