মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

ননদ-ভাবি সম্পর্ক: সুখ ও ঈর্ষার জটিল সমীকরণ

ননদ-ভাবি সম্পর্ক: সুখ ও ঈর্ষার জটিল সমীকরণ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক পরিবারই যৌথ পরিবারকেন্দ্রিক। এই কাঠামোর মধ্যে সম্পর্ক কেবল রক্তের বন্ধন নয়; বরং এতে জড়িত থাকে ক্ষমতা, আবেগ, দায়িত্ব ও প্রত্যাশার জটিল সমীকরণ। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও সূক্ষ্ম সম্পর্কগুলোর একটি হলো ননদ ও ভাবির সম্পর্ক।

অনেক পরিবারে শোনা যায়, “ননদ ভাবির সুখ সহ্য করতে পারে না।” মনোবিজ্ঞানী এবং সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে নিছক কুসংস্কার নয়; সামাজিক, মানসিক ও আবেগগত কারণ রয়েছে।

মূল কারণগুলো

১. পারিবারিক ক্ষমতার স্থানচ্যুতি
বিয়ের আগে ননদরা প্রায়ই পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে রাখেন—সংসারের সিদ্ধান্ত, আবেগী নির্ভরতা এবং ভাইয়ের যত্নে। ভাবি আসার পর এই অবস্থান পরিবর্তিত হয়, যা অনেক ননদের মধ্যে “আমি কি গুরুত্ব হারালাম?”—এর অনুভূতি তৈরি করে।

২. আবেগী প্রতিযোগিতা ও তুলনামূলক মানসিকতা
ভাবির সুখ, স্বামীর ভালোবাসা বা শ্বশুরবাড়ির প্রশংসা ননদের নিজের জীবনের অপূর্ণতার সঙ্গে তুলনা করে। বিশেষ করে যারা নিজের দাম্পত্য বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাদের ক্ষেত্রে ঈর্ষা তীব্র হয়।

৩. সামাজিক শিক্ষা ও ভুল সংস্কার
বাংলাদেশ ও ভারতের সমাজে এখনও প্রচলিত আছে—

  • “ভাবি মানেই সব সহ্য করবে”
  • “ননদ মানেই কর্তৃত্ব রাখবে”

এই ভুল শিক্ষা মেয়েদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মানসিক conditioning তৈরি করে।

৪. পারিবারিক রাজনীতিতে তৃতীয় পক্ষের উসকানি
শাশুড়ি, খালা বা প্রতিবেশীদের কথায় ননদের মনে ভুল ধারণা তৈরি হয়। “ও তোমার ভাইকে দূরে সরাচ্ছে” বা “সব ওর কথায় চলে”—এমন বার্তা দ্বন্দ্ব বাড়ায়।

দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণ

  • খোলামেলা কথোপকথনের অভাব
  • পুরুষ সদস্যদের নীরবতা বা অগ্রহণযোগ্য ভূমিকা
  • “মেয়ে-মেয়ে দ্বন্দ্ব” হিসেবে বিষয়টির অবহেলা

সমাধানের পথ

১. প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা: একজনের সুখ আরেকজনের ক্ষতি নয়, দায়িত্ব ভাগাভাগি বৃদ্ধি পায়।

২. খোলামেলা ও সম্মানজনক যোগাযোগ: অভিযোগ জমিয়ে না রেখে শান্তভাবে আলোচনা করা।

৩. স্বামীর ও ভাইয়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা: সীমারেখা স্পষ্ট করা, ন্যায্যতা বজায় রাখা।

৪. পরিবারকে আবেগী পরিপক্বতায় পৌঁছানো: সম্পর্ককে ক্ষমতার নয়, মানবিকতার ভিত্তিতে দেখা।

৫. প্রয়োজনে কাউন্সেলিং: গভীর দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে পারিবারিক পরামর্শ কার্যকর।

সমাপনী মন্তব্য

ননদ-ভাবির মধ্যে ঈর্ষা বা প্রতিযোগিতা কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আবেগগত কারণের ফল। পরিবারের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠলে, ননদ ভাবির সুখে ঈর্ষান্বিত নয়—বরং গর্বিত হতে পারে। একটি পরিবার সত্যিকারের সুখী হয়, যখন কারো হাসি আরেকজনের চোখে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় না।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন