ভারত ম্যাচ বাতিলে আর্থিক চাপ নেই পাকিস্তানের!

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান হাইপ্রোফাইল ম্যাচ এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে আইসিসির দ্বিচারিতার প্রতিবাদ জানিয়ে এই ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটি না হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসিকে হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন আয়—সব ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তানের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়া, দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নিষেধাজ্ঞা কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতার মতো কঠোর পদক্ষেপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে পাকিস্তানের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি। আইসিসির পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
কিন্তু অতীতের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, হয়তো এক পয়সাও ক্ষতি হবে না পাকিস্তানের। এর কারণ নিহিত আছে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা সবার আগে কে দিয়েছে?
বাংলাদেশ বাদ পড়ার পর তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বকাপ বয়কট করার আভাস দিয়েছিল। এনিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি। প্রধামন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত আসে ১৫ ফেব্রুয়ারির হাইভোল্টেজ ম্যাচ বর্জন করার। বেশ হিসাবনিকাশ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নয়, দেশের সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে তারা এই ম্যাচ খেলবে না।
পাকিস্তান কত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, তা যাচাই করতে অতীতে ফিরতে হবে। কারণ বৈশ্বিক ইভেন্টে ম্যাচ বয়কটের ঘটনা এটাই প্রথম নয়, আরও আছে। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কা সফর করেনি। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আবার ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে সরকারের নির্দেশনা মেনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছিল নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।
এই চারটি ক্ষেত্রেই আইসিসি সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে কোনো আর্থিক শাস্তি দেয়নি। মূল রাজস্ব পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণ ফিও দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। কারণ এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে তাদের সার্বভৌম সরকারের পক্ষ থেকে। এতে ক্রিকেট বোর্ডগুলোর কোনো ভূমিকা ছিল না। আর সরকার নির্দেশিত বয়কটকে বোর্ড পর্যায়ের বয়কটের চেয়ে ভিন্নভাবে বিবেচনা করে আইসিসি।
একইভাবে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকার একক ভূমিকা রাখায় কোনো ধরনের আর্থিক লোকসানে তাদের না পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।