ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রভাবশালী ও অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপের ২৭ দেশের এই জোটের এমন সিদ্ধান্তের কথা বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইইউ’র পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস।
ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগে তেহরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তের বিষয়ে কাজা কালাস বলেন,
“দমন-পীড়নের কোনো জায়গা ইইউ’র নীতিতে নেই। যে সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজের জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়, সে সরকার নিজেই নিজের পতনের পথ তৈরি করে।”
এর আগে ফ্রান্স ও ইতালি এ প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছিল বলে জানা যায়।
নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল, যিনি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন,
“ইরানে যে রক্তপাত ও নির্মমতা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই পদক্ষেপ। আন্দোলন দমনের নামে যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।”
ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরী রাষ্ট্র ইসরায়েল ইইউ’র এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ইউরোপের এই পদক্ষেপ ঐতিহাসিক।”
ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আইআরজিসির সদস্যদের আন্তর্জাতিকভাবে বিচারের আওতায় আনা আরও সহজ হবে।
অন্যদিকে, ইইউ’র সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে ‘গুরুতর কৌশলগত ভুল’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন,
“মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় সংঘাত এড়াতে যখন আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে, তখন ইউরোপ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।”
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড গঠন করা হয়। দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনীর তুলনায় আইআরজিসির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব অনেক বেশি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচিসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই বাহিনীর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
সূত্র : এএফপি