মিরপুরকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে সংসদে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

রাজধানীর মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। এ ঘটনায় দলীয়ভাবে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। কলেজজীবন থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
রাজধানীর সরকারি বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন মিষ্টি। পরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
তবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল রাজধানীর মিরপুর এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নিজের রাজনৈতিক পরিসর ও কর্মী-সমর্থকদের একটি বলয় গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
পারিবারিকভাবেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিএনপির প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু তার বড় ভাই।
মিষ্টির স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তার স্বামী নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হন মিষ্টি। পরে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া মিষ্টির বাবা হাজী মো. নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং মা হাজী মোছা. হোসনে আরা আহমেদ।