মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মহড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি গতকাল এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকোমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মহড়া এলাকা নিরাপত্তা, সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহড়া অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের মহড়া রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকেত হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি প্রদর্শনের অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী বেশ কিছুদিন মার্কিন বিমান বাহিনীর নাইন্থ এয়ারফোর্সের মহড়া হবে। মার্কিন বিমান বাহিনীর নাইন্থ এয়ারফোর্স এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল বা এফসেন্ট নামেও পরিচিত।
সামাজিক যোগোযোগমাধ্যম এক্সে এ বিষয়ক বিবৃতিটি পোস্ট করেছে সেন্টকোম। সেখানে বলা হয়েছে, “ এই মহড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকোম) আওতাভুক্ত এলাকায় শক্তি মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা প্রদর্শন করবে এফসেন্ট। বেশ কিছুদিন এই মহড়া চলবে।”
গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিনই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দিলো সেন্টকোম।
গত ২৬ জানুয়ারি যখন ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নেতৃত্বে মার্কিন রণতরীর বহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে, সেদিন এক বিবৃতিতে সেন্টকোম জানিয়েছিল, “মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ অঞ্চলের জলসীমায় আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করা হয়েছে।”
চলতি জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে এই বহর মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়। সে সময় ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ততা শুরু হয়েছিল তেহরানের। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তিক্ততর হয়ে ওঠে। গত বছর জুন মাসে এ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতও হয়েছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপকমাত্রায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ট্রাম্প সে সময় বলেছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে— তাহলে দেশটিতে ফের সামরিক অভিযান হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সেই সামরিক অভিযান আর হয়নি, তবে তার পরিবর্তে যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানো এবং সামরিক বিমানের মহড়ার যে পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন— তা যে কোনো সময় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।