আর্মেনিয়ার ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনন্য এক যাত্রা

ইয়ারাভার থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় দিনের ভ্রমণে ভোরবেলা নাস্তার পর পর্যটকরা শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে গিয়ে মাউন্ট আরারাতের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করেন। বাইবেলের বর্ণনায় উল্লেখিত এই পাহাড় যদিও তুরস্কের ভূখণ্ডে অবস্থিত, তা আর্মেনিয়ান হৃদয়ের সঙ্গে বিশেষভাবে সংযুক্ত।

প্রথম গন্তব্য ছিল গার্নি টেম্পল। আর্মেনিয়ার একমাত্র টিকে থাকা গ্রীকো-রোমান মন্দিরটি প্রথম শতাব্দীতে সূর্য দেবতা মিহরকে উৎসর্গ করে তৈরি হয়েছিল। আলেকজান্ডারের হেলেনিস্টিক যুগের নকশা ও পাথুরে নিদর্শন আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। মন্দিরের ভেতরে রোমান সভ্যতার মনুমেন্ট এবং পাথরের তৈরি গরম পানির পাবলিক গোসলখানা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এরপর পর্যটকরা পাহাড়ি পথে Symphony of Stones বা “সিম্ফনি অফ স্টোনস” দর্শনে যান। এই বেসাল্ট কলামগুলো বিভিন্ন প্যাটার্নে সাজানো এবং একটি অতিবাস্তব প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করেছে। দর্শনার্থীরা পাহাড়ি উপত্যকার নীচে হেঁটে এই চিত্তাকর্ষক স্তম্ভগুলোর কাছাকাছি গিয়ে গভীরভাবে অভিজ্ঞতা নেন।

সেই পথে একটি আর্মেনিয়ান রেস্টুরেন্টে দুজন নারী ট্রেডিশনাল ড্রেসে “লাবাস” রুটি তৈরি করতে দেখা যায়। স্থানীয় খাবারের মধ্যে পনির, মাংস ও রুটি দিয়ে তৈরি মধ্যাহ্নভোজ এবং মসলাদার চা পরিবেশনের পর যাত্রা চলেছে Geghard Monastery এর দিকে। এই মনেস্ট্রি মূলত পাহাড়ি আর্মেনিয়ান অ্যাপোস্টলিক গির্জা এবং পাথরে খোদাই করা গির্জা ও সমাধি রয়েছে। এটি চতুর্থ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়।

দিবসশেষে ভ্রমণকারীরা Victory Park এ Mother Armenia Monument দর্শন করেন। তরবারি হাতে বিশাল এই নারী মূর্তি আর্মেনীয় ইতিহাস ও লড়াকু চেতনার প্রতীক। সাজানো সবুজ পার্ক থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করে তারা Republic Square এর পাশে ফিরে আসেন।
লেখা :- আবির হাসান
দৈএনকে/জে, আ