বনরুটি-পাউরুটির দাম বাড়ছে, কমছে ওজনও

চা দোকানে রিকশাচালক, দিনমজুর কিংবা নিম্নআয়ের মানুষের ক্ষুধা মেটানোর অন্যতম সহজ খাবার বনরুটি, পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট। তবে এসব বেকারি পণ্যের দাম ও ওজনে পরিবর্তন আসছে। শনিবার থেকে নতুন দামে কিছু পণ্য বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।
বেকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল, ডালডাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ কারণে পণ্যের দাম সমন্বয় করা ছাড়া উপায় নেই।
সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ব্যবসায়িক বাস্তবতায় কিছু পণ্যের দাম ও ওজন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ৪০ থেকে ৫০ টাকা দামের কিছু পণ্যে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। ১২ টাকার কেকের দাম হতে পারে ১৫ টাকা। তবে খেটে খাওয়া মানুষের কথা বিবেচনায় ১০ টাকার গোল বনরুটির দাম একই রাখা হবে, কমানো হবে ওজন।
বর্তমানে ১০ টাকার গোল বনরুটির ওজন প্রায় ৪০ গ্রাম। নতুন করে আরও ৫ গ্রাম কমানো হতে পারে। একইভাবে ৪০০ গ্রাম পাউরুটির ওজন কমে ৩২০ থেকে ৩৫০ গ্রামে নামতে পারে। দাম বাড়ানো হলে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ছয় মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দার দাম প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখন ৫০ কেজির ময়দার বস্তা প্রায় ৩ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছরে চিনির দামও বেড়েছে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। পাশাপাশি সয়াবিন তেল ও ডালডার দামও বেড়েছে।
রাজধানীর একটি বেকারির মালিক মনির খান বলেন, কাঁচামালের পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে। পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় অনেক বেকারিকে এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এদিকে পণ্যের দাম বাড়লে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ছোট ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও। রায়েরবাজারে ভ্যানে করে বেকারি পণ্য বিক্রি করা রিপন শেখ বলেন, কেজিতে ২০ টাকা দাম বাড়লে তাদেরও বিক্রয়মূল্য বাড়াতে হবে। এতে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিকশাচালকরাও বলছেন, দাম বাড়লে তাদের দৈনন্দিন খাবারের খরচ আরও বাড়বে। মোহাম্মদপুরের রিকশাচালক আমিন বলেন, এখন চা, বনরুটি বা কেক খেতে একবারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচ হয়। দাম বাড়লে সেই খরচ ৫০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বেকারি শিল্পের প্রায় প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে। তাই ব্যবসা চালিয়ে রাখতে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে দাম কতটা যৌক্তিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৭ হাজার ক্ষুদ্র বেকারি রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে সাত শতাধিক। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ যুক্ত বলে সংগঠনটির দাবি।