শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল জিতলেন অ্যানি কারসন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১১৪৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত এনসিটি পরিচালনায় ১৫ বছরের দায়িত্ব পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড জলবায়ু অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে ইউএনডিপির সহযোগিতা চাইলেন মিন্টু যুব এশিয়া কাপে ৫ নভেম্বর আফগানিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ মানি চেঞ্জারে একবারে ৩ হাজার ডলার নিতে পারবেন বিদেশগামীরা বিয়ের দিনের চেয়েও সুন্দর, মেহজাবীনের নতুন সাজে মুগ্ধ ভক্তরা কেরানীগঞ্জে সড়কের পাশে রক্তমাখা নবজাতকের দায়িত্ব নিলো ইউএনও
  • চট্টগ্রামের এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি, মিলল ১৯১ ডিভাইস

    চট্টগ্রামের এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি, মিলল ১৯১ ডিভাইস
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর একটি আবাসিক বাড়ি থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাড়িতে অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তারা প্রায় দেড় মাস ধরে নগরীর খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ এসব তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ যৌথভাবে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। প্রায় দেড় মাস আগে বিদেশি নাগরিকরা বাড়িটি ভাড়া নেন।

    অভিযানে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ ছাড়াও একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ও পাঁচটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া চারটি সিমকার্ড, পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও পাওয়া গেছে।

    পুলিশের ধারণা, বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইসের উপস্থিতি থেকে ওই বাড়িতে সংগঠিতভাবে অনলাইনভিত্তিক কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে এসব ডিভাইস ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হতো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    তদন্তসংশ্লিষ্টরা উদ্ধার করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস পরীক্ষা করে অনলাইন যোগাযোগ, ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্ম, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।

    দেশি-বিদেশি সহযোগীদের তথ্য

    পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশি ও বিদেশি কয়েকজন সহযোগীর বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। এসব সহযোগীর কেউ চট্টগ্রামে, আবার কেউ দেশের অন্যান্য এলাকায় অবস্থান করছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

    বাড়ি ভাড়া নেওয়া, বিদেশিদের যাতায়াত, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ, যোগাযোগ কিংবা অর্থ লেনদেনে এসব সহযোগীর ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    কীভাবে বাড়িটি ভাড়া নিলেন বিদেশিরা

    একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কীভাবে একটি আবাসিক বাড়ি ভাড়া নিলেন, তাদের পরিচয় কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল এবং বাড়ির মালিক বা স্থানীয় কেউ তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতেন কি না— এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাংলাদেশে আসার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, তাদের ভিসার ধরন কিংবা তারা কীভাবে ওই বাড়িতে অবস্থান নিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

    অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন জানতে তদন্ত

    একটি বাড়ি থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিক এবং বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের পরিধি বাড়ছে। তারা অনলাইনে কী ধরনের কার্যক্রম চালাতেন, কারা তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এর মাধ্যমে কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

    উদ্ধার করা ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণ, বাড়ির ভাড়া চুক্তি, বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশসংক্রান্ত নথি এবং তাদের আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার আশা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা করা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে ওই বাড়িতে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ড এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন